রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, ‘বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিতে বা আমাদের পছন্দমতো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে দিচ্ছে না।’ গত গতকাল (শনিবার, ১৮ জুলাই) ওয়াংচুকের অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করায়।
সাফদারজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রবিবার জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তার রক্তের উপাদানে ‘সামান্য পরিবর্তন’ আসায় তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভারতের লাখো শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রভাবিত করা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সোনাম ওয়াংচুক। ভারতীয় তরুণদের গড়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এই অনশন করছেন তিনি। গত মে মাসে হওয়া ওই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সারা দেশেই এটি সমর্থন পাচ্ছে।
ওয়াংচুক গত শুক্রবার সরকারি চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন যে তিনি হাসপাতালে যেতে আগ্রহী নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, শনিবার তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, ‘আমাদের তলায় ৩০ জন এবং পুরো হাসপাতালজুড়ে ১০০ জনের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের চলাফেরা মারাত্মকভাবে সীমিত করে দেয়া হয়েছে।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিজেপি আগামীকাল সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে।
 reacts as he holds a picture of Sonam Wangchuk-768x402.webp)




