যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির আলোচনায় স্থবিরতা, বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ হ্রাস এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার ছক কষছে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিবকতায় ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের নৌ অবরোধসহ আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, তেহরানের ওপর অবরোধ কার্যকর করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে নৌ সেনা মোতায়নের সক্ষমতা মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।
এছাড়া ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন তিনি। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন ভ্যান্স।
আরও পড়ুন:
জে ডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আত্মবিশ্বাসী। ইরান মাঝে মাঝে এমন প্রতিশ্রুতি দেয় অথচ তা রক্ষা করে না। চুক্তি করছে কিন্তু তা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে তাদের বাধ্য করতে আমাদের হাতে অনেক উপায় রয়েছে।’
শুধু তাই নয়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার নিউজম্যাক্সের ‘রব স্মিট টুনাইট’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে এসব হুঁশিয়ারি দেন বেসেন্ট।
এদিকে মিথ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘বড় ধরনের ভুল’ হিসাব করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই বলছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি জানান, ইরানের যুদ্ধ নিয়ে গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভুল পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এখন হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে একই পথে যাচ্ছে দেশটি। এরইমধ্যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে জোর দাবি জানিয়েছে ইরান। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি পার হওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দু’টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।





