Recent event

‘জুলাইযোদ্ধাদের’ জন্যও পৃথক দপ্তর হবে— তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি

তারেক রহমান
তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
4

জুলাইযোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (রোববার, ১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এই প্রতিশ্রুতি দেন।

জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে চব্বিশে যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, তারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার। সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’

জুলাইযোদ্ধাদের জন্য বিএনপির প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই শহিদ পরিবার যারা আছেন, জুলাইযোদ্ধা যারা আছেন; জুলাই আন্দোলনের শহিদ পরিবার বা যোদ্ধা যারা আছেন, তাদের কষ্টগুলোকে কিছুটা হলেও যাতে আমরা সমাধান করতে পারি। যারা হারিয়ে গেছে, তাদের তো আমরা ফিরে পাব না। কিন্তু সেই পরিবারের কষ্টগুলো, বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা যাতে দেখভাল করতে পারি, এই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব। তাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।’

জুলাইয়ে শহিদদের স্বজনদের কথা শুনছেন তারেক রহমান |ছবি: এখন টিভি

‘আগামী নির্বাচন অত্যন্ত অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’

স্বনির্ভর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই উদ্দেশ্য পূরণে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আগামী দিনে এভাবেই শোকসভা ও শোকগাথা চলতেই থাকবে। সুতরাং আর শোকগাথা বা শোক সমাবেশ নয়। আসুন... গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় গাথা রচনা করবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি দল বা কোনো গোষ্ঠীর নয়। এ আন্দোলন ছিল সত্যিকার অর্থে অধিকারহারা গণতন্ত্রকামী মানুষের গণ-আন্দোলন। চব্বিশের অর্জনকে সুসংহত করতে চাইলে দেশের নারী-পুরুষ সবার অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।’

জুলাইয়ে শহিদদের স্বজনদের কথা শুনছেন জুবাইদা রহমান |ছবি: এখন টিভি

তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের সম্পর্কে স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষকে অবশ্যই সজাগ থাকা জরুরি।’

জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দুইভাবে আমরা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার চেষ্টা করতে পারি। এক. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই. যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সাহসী মানুষগুলো রাজপথে নেমে এসেছিলেন অর্থাৎ প্রত্যেকটি মানুষের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা...।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন এবং ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহিদ এবং আহতদের রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করব।’

এনএইচ