সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এনএসডিএ একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক হলেও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’ চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হবে—এমন সতর্কতা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব জালিয়াতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘চাকরিদাতারা যেন বলেন—বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে, তারা নিশ্চয়ই ভালো করবে।’
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর জন্য এনএসডিএ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময়। তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করে দেয়াই সরকারের দায়িত্ব।’ এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপরও তিনি জোর দেন।
আরওম পড়ুন:
সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে। সভায় জানানো হয়, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতে শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তি উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অনুমোদন করা হয়। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএর কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জনবলকে ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিগুলোতে (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (সিডিসি) প্রদান নিয়েও আলোচনা হয়।
গভর্নিং বডির এ সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





