ফ্যামিলি কার্ড আসলে কী? (What is Family Card?)
ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি বিশেষ ডেটাবেস ভিত্তিক পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো নিয়মিত সরকারি আর্থিক অনুদান পাবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী জেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এই কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর (Female Head of Household) হাতে তুলে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন (Women Empowerment) নিশ্চিত করবে। সরকার আগামী ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশের বেশি যোগ্য পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
ফ্যামিলি কার্ডের বিশেষ সুবিধাসমূহ (Benefits of Family Card)
নতুন সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ (Double Allowance): বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক ভাতা (Old Age Allowance), বিধবা ভাতা বা অন্যান্য ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হবে।
নারীর আর্থিক স্বাধীনতা: কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে। এতে নারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
দ্রুত বাস্তবায়ন: দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে আগামী ঈদুল ফিতরের (Eid-ul-Fitr) আগেই পাইলট প্রকল্প আকারে কয়েকটি এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
মৌলিক চাহিদা পূরণ: বেকার বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারবে।
আরও পড়ুন:
আবেদন করার নিয়ম ও ফ্যামিলি কার্ড পাবো কীভাবে? (Registration Process)
অনেকেই প্রশ্ন করছেন ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবো (How to get Family Card) বা এর নিয়ম কী? আবেদন প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process) স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার তিনটি ধাপে কাজ করছে:
১. উপকমিটির প্রতিবেদন: আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে উপকমিটি তাদের চূড়ান্ত রূপরেখা জমা দেবে, যেখানে ভাতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও নীতিমালা উল্লেখ থাকবে।
২. পাইলট প্রজেক্ট ও তালিকাভুক্তি: ঈদের আগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হলে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের তালিকা (Beneficiary List) তৈরি করা হবে।
৩. এলাকাভিত্তিক সম্প্রসারণ: মাদারীপুরের শিবচরসহ নির্দিষ্ট এলাকায় সফলতার পর দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে এটি সম্প্রসারিত হবে। তখন মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে সরাসরি ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।
৪. অনলাইন আবেদন (Family Card Online Application): স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনআইডি (NID) ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখা সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম।
ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন প্রক্রিয়া (Family Card Online Application)
ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় এই কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকার একটি অনলাইন পোর্টাল (Online Portal) চালুর পরিকল্পনা করছে। যোগ্য পরিবারগুলোর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) ব্যবহার করে অনলাইনে ডেটাবেস তৈরি করা হবে। যখনই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে, তখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে আবেদন করা সম্ভব হবে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ রাখাই সবচেয়ে উত্তম।
আরও পড়ুন:
ফ্যামিলি কার্ডের বিশেষ সুবিধাসমূহ (Benefits of Family Card)
সুবিধার নাম (Benefit Name)
বিস্তারিত বিবরণ (Details)
দ্বিগুণ আর্থিক ভাতা
বয়স্ক বা বিধবা ভাতার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ নগদ টাকা।
নারীর অগ্রাধিকার
টাকা সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছাবে।
দ্রুত বাস্তবায়ন
আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প শুরু হবে।
পারিবারিক নিরাপত্তা
বেকার ও দরিদ্র পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ।
বিএনপি সরকার দিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড: প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা সহায়তা ও নিত্যপণ্যের বিশেষ সুবিধা
দেশের প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে 'ফ্যামিলি কার্ড' (Family Card) কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি (BNP)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো, ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে মাসিক আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা (Financial and Food Assistance)।
আরও পড়ুন:
ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্য ও সুবিধা (Core Objectives and Benefits)
বিএনপির ঘোষিত এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের (Price Hike) বাজারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার নিচের সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবে:
১. আর্থিক সহায়তা (Financial Aid): প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারকে প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
২. খাদ্য নিরাপত্তা (Food Security): টাকার পরিবর্তে বা পাশাপাশি চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (Essential Commodities) সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩. সার্বজনীন অন্তর্ভুক্তি (Universal Inclusion): দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কেবল নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল কার্ডের আওতায় আনা হবে।
বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ডের রূপরেখা (Program Outline)
সুবিধার ধরণ (Benefit Type) বিবরণ (Description) পরিমাণ (Amount/Items) মাসিক ভাতা (Monthly Allowance) সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা। ২০০০ - ২৫০০ টাকা খাদ্য সামগ্রী (Food Ration) মৌলিক খাদ্য পণ্য সরবরাহ। চাল, ডাল, তেল, লবণ প্রযুক্তি (Technology) স্বচ্ছতার জন্য ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড। Smart Family Card
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও জনমত
বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, এই ফ্যামিলি কার্ড দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে (Social Safety Net) আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যারা মুদ্রাস্ফীতির কারণে সংকটে আছে, তারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে। এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আজ (বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন:
ভাতা হবে আগের চেয়ে দ্বিগুণ
মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা বর্তমানে প্রচলিত সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (Social Safety Net Program) ভাতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিদ্যমান কার্ড ও অন্যান্য ভাতা কর্মসূচি আগের মতোই চলমান থাকবে। তবে নতুন ফ্যামিলি কার্ড হবে সার্বজনীন, যা দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিএনপির ‘নতুন উদ্ভাবন’ ও ডিজিটালাইজেশন
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড মূলত বিএনপির একটি নতুন উদ্ভাবন (Innovation), যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করবে।” তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প
বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে (Experimental) এই কার্ড কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মূলত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের (Election Manifesto) একটি অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি, যা এখন বাস্তবায়নের পথে।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের ১৫টি জিজ্ঞাসার উত্তর
ক্রমিক প্রশ্ন (High Search Volume Questions) উত্তর (Brief Answer) ১ ফ্যামিলি কার্ড কি? (What is Family Card?) এটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড। ২ কারা আবেদন করতে পারবেন? (Who can apply?) দেশের বেকার, দরিদ্র এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত যোগ্য পরিবারগুলো। ৩ আবেদন করতে কি কি লাগে? (Required Documents) জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সচল মোবাইল নম্বর। ৪ ভাতার টাকা কে পাবেন? (Who will receive money?) পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে টাকা দেওয়া হবে। ৫ ভাতার পরিমাণ কত? (Allowance Amount) প্রচলিত বয়স্ক বা বিধবা ভাতার তুলনায় এটি অন্তত দ্বিগুণ হবে। ৬ আবেদন শুরু কবে? (Application Start Date) আগামী মঙ্গলবার চূড়ান্ত নীতিমালার পর পাইলট প্রকল্প শুরু হবে। ৭ অনলাইনে আবেদন করা যাবে কি? (Online Application) হ্যাঁ, সরকার খুব দ্রুত ‘ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন পোর্টাল’ চালু করবে। ৮ একটি পরিবারে কয়টি কার্ড হবে? (Number of Cards) প্রতি পরিবারে (খানা) শুধুমাত্র একটি ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ থাকবে। ৯ কোথায় যোগাযোগ করতে হবে? (Where to Contact) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয়ে। ১০ টাকা কিভাবে হাতে আসবে? (Payment Method) সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ১১ কার্ড পেতে কি টাকা লাগে? (Is it free?) না, কার্ড করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সরকারিভাবে বিনামূল্যে। ১২ পাইলট প্রকল্প কোথায় শুরু হবে? (Pilot Project Location) মাদারীপুরের শিবচরসহ দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায়। ১৩ অন্য ভাতা পেলেও কি এটি পাব? (Other Allowance) দ্বৈত সুবিধা রোধে সাধারণত এক পরিবারে এক ধরণের সুবিধাই থাকবে। ১৪ এনআইডি কার্ড না থাকলে কি হবে? (No NID) NID কার্ড বাধ্যতামূলক; তবে না থাকলে বিকল্প জন্ম নিবন্ধন বিবেচনা হতে পারে। ১৫ কার্ড কতদিন মেয়াদী হবে? (Validity) এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি, যা নির্দিষ্ট সময় পর পর নবায়নযোগ্য।





