দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, স্বৈরশাসন ও আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সাক্ষাতে দল ও ফেনীতে নিজের নির্বাচনি এলাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দু’টি আলাদা চিঠি হস্তান্তর করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য সহকারে নেতাদের কথা শোনেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এবি পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন। নেতারা জুলাই আগস্টের উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।
এবি পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে চারটি সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করা জাতীয়ভাবে চার সুপারিশ,গুলো
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ নিয়ে শুরুতেই যে বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছে আইনি এবং সাংবিধানিক বিতর্ক এড়িয়ে এর একটি সমঝোতামূলক গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া।
২. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের সামনে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা আছে তা মোকাবিলার জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সার্বজনীন পরামর্শ সভার আয়োজন করা।
৩. দেশের আইনশৃঙ্খলাজনিত একটি আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সুবিধাজনক সময়ে যথাশিগগির সম্ভব একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করার মাধ্যমে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কঠোর অবস্থানের বার্তা জানিয়ে দেয়া।
৪. মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন আমলের ভয়াবহ জুলুম নির্যাতনসহ জুলাই গণঅভ্যূত্থানকালীন গণহত্যার বিচার এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য বিএনপি যে নির্বাচনি অঙ্গীকার করেছিলো তা বাস্তবায়ন।
জাতীয় ইস্যু ছাড়াও নিজের নির্বাচনি এলাকা ও প্রধানমন্ত্রীর নানার জেলা এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জেলা ফেনীর জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন মঞ্জু।
আরও পড়ুন:
ফেনী জেলা নিয়ে করা সুপারিশগুলো
১. ফেনীতে একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
২. ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তর করা।
৩. ভূ-রাজনৈতিক ও যোগাযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ফেনীতে একটি এয়ারপোর্ট এবং সেনা ব্রিগেড স্থাপন করা।
৪. ফেনীকে বন্যার করাল গ্রাস থেকে মুক্তকরণ, ফেনী শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, শহরের গ্যাস সংকট দূরীকরণ, ফেনীর বিসিক শিল্পনগরীকে আধুনিকায়নসহ কিশোর গ্যাং, মাদকের দৌরাত্ম্য, অবৈধ মাটির ব্যবসা বন্ধ, মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ, ফেনীতে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা দোস্ত টেক্সটাইল মিল চালুসহ শহরের ময়লার ডিপো স্থানান্তরে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ।
৫, দুর্ঘটনা প্রবণ ফেনীর লালপোল এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ।





