বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘তাদের কাছে যদি এই ধরনের কোনো তথ্য থাকে, আমি আপনাদের (সাংবাদিক) সামনে চ্যালেঞ্জ করছি। তথ্য নিয়ে আসতে পারেন, আমাদের কাছেও তথ্য আছে, ওপেন ডিবেট হবে।’
তিনি বলেন, ‘যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে একটি কমিটি আছে। সেখানে একজন দীর্ঘদিন ধরে সভাপতি। সত্যিই তার কোনো রেজিস্ট্রেশন আছে কি-না, তারা কীভাবে মনিটরিং করে, ডাটা তারা কীভাবে সংরক্ষণ করে কালেক্ট করে তার কোনো ব্যাখ্যা নাই। মনগড়া একটা কথা বলে দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
মন্ত্রী বলেন, ‘উনি আমার কাছে এসেছিলেন সচিবালয়ে। উনি চেয়েছিলেন আমাদের নীতি নির্ধারণী মিটিংয়ে থাকতে। আমি তাকে বলেছি, আপনার পরামর্শগুলো দিয়ে যান, আমরা নীতি নির্ধারণী মিটিংয়ে সেগুলো উপস্থাপন করবো। তারপর যে সিদ্ধান্তগুলো হবে, আবার আপনাকে আমরা জানাবো। কিন্তু ওই মিটিংয়েই থাকতে চান তিনি, তার যে ধারণা সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে চান। এটা কোনো কোনো সময় আমার কাছে মনে হয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য আছে।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণত চার্টের চেয়ে কম ভাড়ায় বাসস্টপেজ থেকে যাত্রীরা গিয়ে অভ্যস্ত। যখনই চাপ থাকে না তখন চার্টের চেয়েও কম ভাড়ায় বাস মালিকরা যাত্রী নেন। এখন চার্টের নির্ধারণ ভাড়াটাই নেয়া হচ্ছে। যেসব যাত্রী কম ভাড়ায় যেত বা গিয়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে মনে হচ্ছে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন মালিকরা।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহনগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে। বেশি ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে নেই। তবে কাউন্টার থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে যাত্রী তোলার সময় বাড়তি ভাড়া নেয়ার কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’
মাঝপথ থেকে অনেক যাত্রী চালকদের বেশি টাকা অফার করে যেতে চান দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘চলার পথে যাত্রীদের একটা প্রবণতা আছে, যেহেতু আসন কম, বাস কম এবং যাত্রী অনেক। তখন কেউ কেউ ১০০ বা ২০০ টাকা বেশি অফার করে নিজের স্বেচ্ছায় যেতে চাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে এর মাঝেও বিচ্যুতি হচ্ছে না, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যেখানে কিছু ব্যত্যয়, বিচ্যুতি রয়েছে সেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে।’
এর আগে এবারের ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধু অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেয়া হবে।





