কমলাপুর স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দুই সন্তান ও পরিবার নিয়ে অপেক্ষা আয়েশা বেগমের। ঈদের ছুটি বোনের সঙ্গে কাটাতে যাবেন বগুড়ার সান্তাহার। তবে নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসেনি বুড়িমারী এক্সপ্রেস। এতে সন্তান পরিবার নিয়ে বিপাকে এই নারী।
আয়েশা বেগম বলেন, ‘৮টা ৩০ এ ট্রেন ছাড়ার কথা। কিন্তু এখনো আসেনি। বাচ্চাদের নিয়ে, সবাইকে নিয়ে বসে আছি। এটা খুবই ভোগান্তির একটা বিষয়। আর কখন আসবে সেটাও উনারা সঠিকভাবে বলছে না।’
শুধু বুড়িমারী এক্সপ্রেসই নয়, সকাল থেকে কমলাপুরে পরিবর্তন হয়েছে প্রতিটি ট্রেনের সময়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ট্রেন। এতে পরিবার নিয়ে ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ। ভোগান্তি আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সবার।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কোনো কারণ জানাচ্ছে না। আমরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্টেশনে আছি। অপেক্ষা করছি, কোনো কারণ বুঝছি না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৪টায় স্টেশন সিগন্যালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সকাল ৬টা পর্যন্ত কমলাপুরে প্রবেশ করনি কোনো ট্রেন। এতে এক ঘণ্টা দেরিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা দেরিতে পর্যটক এক্সপ্রেসসহ প্রতিটি ট্রেন ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেড়িতে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যাত্রীরা।
যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার যাবো, ১৫ জন যাচ্ছি আমরা। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে ট্রেনের জন্য বসে আছি। কিন্তু ট্রেন নেই প্লাটফর্মে।’
এদিকে কমলাপুর স্টেশন মাস্টার বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে দূর করা হয়েছে সিগন্যাল জটিলতা, শিডিউল বিপর্যয় ঠিক হতে সময় লাগতে পারে আরও সময়।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের একজন বলেন, ‘আমাদের সিগন্যালের যে ত্রুটিটা হয়েছিল সকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত, এটা আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা এসে খুব দ্রুত মেরামত করেছে। আশা করি দুই ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
এবারের ঈদ যাত্রার আগে ও পরে ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ পাহাড় সমান। ছিল শিডিউল বিপর্যয়সহ নানা সংকট। ফলে রেল আধুনিকায়নসহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দাবি যাত্রীদের।





 reacts as he holds a picture of Sonam Wangchuk-320x167.webp)