মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত বাঙালি। শোষণের শেকল ভেঙে মুক্ত হবার আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি প্রাণে।
রক্তঝরা গল্পগাঁথায় মোড়ানো অগ্নিঝরা মার্চেই স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার। পহেলা মার্চে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত থেকে শুরু হয় বাংলার ছাত্র-জনতার সংগ্রাম। একে একে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ-প্রতিটি প্রাণে দিয়েছিল মুক্তির বারতা।
২৫ মার্চের কালরাত পেরিয়ে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা। উদিত রক্তিম সূর্য। পদ্মা-মেঘনা-সুরমা বিধৌত বাংলায় অভ্যুদয় হয় লাল-সবুজের পতাকার। স্বদেশের প্রতিটি ধূলিকণায়, সবুজের আল্পনায় লাগে স্বাধীনতার দোলা।
স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্যদিয়ে লাখো প্রাণ উদ্বুদ্ধ হয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে। শুরু হয় নয় মাসের লড়াই-সংগ্রামের রক্তাক্ত অধ্যায়।
৭১ পেরিয়ে বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে পাঁচ দশকের বেশি সময়। এ পথে নানা বাধা পেরিয়ে অর্জনের শূন্য খাতায় প্রিয় মাতৃভূমি লিখেছে সাফল্যের গল্প। আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। খাদ্য ঘাটতি, দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে বেরিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে রিজার্ভ। বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ, মাথাপিছু আয়, গতি পেয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিখাত।
আরও পড়ুন:
অর্থনীতিবিদ ড.সেলিম জাহান বলেন, ‘আমাদের ছোট অর্থনীতি ছিলো আজ প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে। আজ আমাদের পাথাপিছু আয় ২৭০০ ডলারের মতো। এ অর্জনের পেছনে কতগুলো অনুঘটক কাজ করেছে। কিছু কিছু নীতিমালা কিছু কিছু মানুষের সৃজনশীলতা ও কর্মকৌশল। সরকারের নীতিমালায় সামাজিক থাতে তার অগ্রগতির জন্য নানা রকম চেষ্টা করা হয়েছে।’
তবে, স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময় পেরুলেও অসমতা ও বঞ্চনা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ আয়-বৈষম্যে আসেনি সাম্যতা। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলসহ সরকারকে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
তিনি আরও বলেন, ‘অসমতা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয়ে নয়। এটি সামাজিক বিষয় এটি ন্যায্যতার বিষয় আবার এটি রাজনৈতিক বিষয়। যেখানে বৈষম্যর বিরুদ্ধে মানুষ সচেতন হয়, তখন মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এটি আমরা বার বার দেখেছি।’
প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধনে প্রবহমান সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি অসমতা দূরীকরণে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের। এর মধ্যদিয়েই দেশের অর্থনীতি আর আর্থসামাজিক খাতে নিশ্চিত হবে সুবিচার।





