ফাল্গুনের দখিনা হাওয়াকে নিয়েই চৈত্রের সাজ। সেই রূপের দেখা মেলে চৈত্রের ফসলের মাঠেও। কোথাও বোরো ধানের দোলা, মাঠ বিছানো পাট, ভুট্টা, গ্রীষ্মকালীন সবজির পসরা। প্রাণ ও প্রকৃতির অবিচ্ছিন্ন যাত্রা। মাটির সাথে ভূমিপুত্রদের নিবিড় যৌথতা এখানে যুগ যুগ ধরে।
হোক গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীতের দাপট। চক্রের মতো ঘুরে আসা ঋতুর সঙ্গে সখ্যতা এই মানুষগুলোর। উর্বরা এ মাটিতেই যারা ভাগ্য খুঁজে ফেরেন।
চৈত্রের দিনলিপি। বাংলা বছরের শেষ মাস কিন্তু কৃষির শেষ বলে কিছু নেই। এ মাসে রবিশস্য আর গ্রীষ্মকালীন ফসলের যৌথ কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করে কৃষক।
কখনো সূর্যের তীব্রতা, আবার নিমিষে মেঘের আনাগোনা। খরতাপে চৌচির মাটির গায়ে আশীর্বাদের বৃষ্টির পরশ স্পষ্ট। শস্যের বুকে আনে নবপ্রাণ।
বদলে যাওয়া প্রকৃতিকে সঙ্গী করেই চলে কৃষকের উদযাপন। যেমন করে কুড়িগ্রামের অভাব গায়ে মেখে মুন্সীগঞ্জের ক্ষেতে শ্রম দেন জিরাতিরা।
চৈত্রে সবুজের প্রাচুর্যতায় বিস্তর হয়েছে ফসলের মানচিত্র। রবি শস্যের বিলম্বিত আর খরিপ মৌসুমের গোড়ায় মাঠে এখন বোরো ধানের উৎসব। আছে শেষ সময়ের আলু, সোনারঙা গমের শীষে দোল আর সবুজের ফাঁকে বাড়ন্ত সজনে ডাটা। চৈত্রে সেচ, সারের খরচ আর ফলন নিয়ে আছে চিন্তার ভাঁজ। মাঠের ফলনের দাম উঠবে কিনা তাও অনিশ্চিত।
খরিপ মৌসুমের ফসলে লক্ষ্য আর প্রাপ্তির গল্পে আছে উত্থান-পতন। সরকারের টালিখাতায় উৎপাদনের হিসাবে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে। পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা জাতভেদে ৭১ হাজার হেক্টর থেকে ২ লাখ ২৭ হেক্টর জমিতে।
সোনালি আঁশের পাট নিয়েও স্বপ্ন বুনছে সরকার। চলতি মৌসুমে ৭ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৫ লাখ টন পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদনেও।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘এপ্রিল-মে এই দুই মাস চলার জন্য যে পরিমাণ ডিজেল, আমি কিন্তু বলছি যে শুধু ডিজেলে আমাদের সেচ যন্ত্র চলে না। বেশিরভাগই বিদ্যুৎচালিত এবং সোলার পাম্পও আছে অনেক। পরিমিত পরিমাণে সেচ দেয়ার জন্য আমাদের বিভিন্ন যে প্রযুক্তি আছে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘১০ লাখ একরেরও বেশি জমিতে আমাদের আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খরিপ মৌসুমের আরেকটা ফসল হচ্ছে পাট। গবেষণা থেকে নতুন যেসব জাত বের করা হয়েছে এগুলো করা হয়।’
নানা আয়োজন, উৎসব-কৃত্যে বিদায় নেবে চৈত্র। সংক্রান্তির গল্প পেরিয়ে জীর্ণতাকে বিদায় দিয়ে ইতি টানবে চৈত্রবন্দনা। প্রকৃতি গাইবে কালবৈশাখীর গান।





