অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিল আকারে পাশের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।
পাশ হওয়া নতুন আইনে শ্রমিকদের স্বার্থে বেশকিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শতকরা হারের জটিলতা থাকছে না এবং সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতেই ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে। নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন বা চার মাস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিনে উন্নীত করা হয়েছে এবং ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুই তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন অথবা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘যৌন হয়রানি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং যৌথ দর-কাষাকষি প্রতিনিধি মনোনয়নের বিধান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ আইনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রম আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠনসহ শ্রমবিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসারে নাবিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই আইন পাশ হওয়া কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয় বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতিফলন। এটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফার বাস্তবায়নে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সরকার আশা করছে, এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে ইতিবাচক ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।




