দেশে এসেছে কিরগিজস্তানের মর্গে থাকা প্রবাসী রাসেলের মরদেহ

মরদেহবাহী কফিন
মরদেহবাহী কফিন | ছবি: এখন টিভি
1

কিরগিজস্তানে চার প্রবাসীর মরদেহ মর্গে পড়ে থাকা ও দূতাবাস না থাকায় মরদেহ দেশে পাঠাতে বিপত্তি দেখা দেয়। এ বিষয়ে এখন টেলিভিশনে খবর প্রচারের পর দেশে ফিরলো কিরগিজস্তান প্রবাসী রাসেলের মরদেহ। বৈধ কর্মী হিসেবে বিএমইটির কার্ড থাকা আরও দু’জনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

মৃত্যুর প্রায় ২ মাস পর প্রিয়জনের বাক্সবন্দি মরদেহ দেশের মাটিতে পৌঁছাতেই কান্নার শোরগোল পড়ে যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেইটে। শেষ বিদায় নিতে দেশে ফিরলো কিরগিজস্তান প্রবাসী রাসেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনরা বুঝে পায় তার মরদেহ।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কার্ড থাকার পরও কিরগিজস্তানে ৪ প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশটির মর্গে পড়ে থাকার খবর এখন টেলিভিশনে প্রচারের পর উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে থাকা প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রায় ৪ হাজার ডলার খরচ করে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়।

কল্যাণ ফাউন্ডেশনের এক সদস্য বলেন, ‘সব মিলিয়ে যে টাকা ডোনেশন করেছেন, সেখান থেকে আমাদের ৪ হাজার ডলার পরিপূর্ণ হয়েছে এবং সেটা দিয়েই আমরা রাসেলকে দেশে পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।’

আরেকজন বলেন, ‘রাসেলকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমাদের প্রায় ৫৫ দিন লেগেছে। আমাদের কমপক্ষে ৭ থেকে ৮টি ডকুমেন্ট লাগে। যদি কিরগিজস্তানে একটা কনস্যুলেট অফিস থাকতো, তাহলে আমরা আরও তাড়াতাড়ি ও আরও সহজে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে পারতাম।’

আরও পড়ুন:

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, আরও দুই প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আল আমিন ও কুমিল্লা চান্দিনার মোহাম্মদ রাসেলের পাসপোর্ট যাচাই করে বিএমইটি ছাড়পত্র পাওয়া গেলে প্রক্রিয়া শুরু করে মন্ত্রণালয়। তবে দেশটিতে দূতাবাস না থাকায় মরদেহ দেশে ফেরাতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দেয় তারা।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. এ টি এম মাহবুব উল করিম বলেন, ‘প্রতিনিয়ত প্রায় ১০ থেকে ১৫টা মরদেহ আমাদের এখানে আসে। সেক্ষেত্রে আমরা প্রতিটি আবেদনের ক্ষেতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের ডকুমেন্টেড হলে আমরা ব্যবস্থা নেই, আর আনডকুমেন্টেড হলে মিনিস্ট্রিতে আমরা পাঠিয়ে দেই।’

এছাড়া উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আবুল খায়েরের মরদেহ প্রতিষ্ঠানের খরচে দেশে পাঠাতে সম্মত হয়েছে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

উজবেকিস্তান বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব শুকলা বণিক বলেন, ‘স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি তার কোম্পানির মালিকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খরচটা পেয়েছেন, যাতে মরদেহটি দেশে পাঠানো যায় এবং তারা এই মরদেহ পাঠানোর জন্য কাজ করছে। আমি সর্বশেষ জানতে পারলাম, তারা তার্কিশ এয়ারলাইন্সে টিকিট খুঁজছে।’

তবে চাঁদা ও সহযোগিতায় আর কত প্রবাসীর নিথর দেহ দেশে ফিরলে টনক নড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের—তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এসএইচ