ঢাকা কলেজের আবাসিক হল। ডেঙ্গু শঙ্কায় নিয়মিত চালানো হয় ফগিং কার্যক্রম। তবে, কমে না মশার উপদ্রব। ফগিংয়ের আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ে মশার উৎপাত। এছাড়া, অতিরিক্ত ধোঁয়া সৃষ্টি করে অস্বস্তির, এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, ফগিং স্পেরে করার পর আরও বেশি মশার উপদ্রব বাড়ে বলে দাবি করেন তারা।
শুধু, ঢাকা কলেজ নয়, রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় চলছে মশা মারার এমন কার্যক্রম। দিনশেষে ফলাফল-কমেনি ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ। এটি প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের প্রধান অস্ত্র ফগিং মেশিন বা এখানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কতটা কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফগিং মূলত প্রাপ্তবয়স্ক উড়ন্ত মশা নিধনে সাময়িকভাবে কাজ করে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক সময়, সঠিক ডোজ এবং ব্যবহৃত রাসায়নিকের মানের ওপর।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘ফগিং করার জন্য যে ওষুধগুলো দেয়া হয় তা কতটা কার্যকর তার রির্পোটগুলো কিন্তু আমরা জানি না। রির্পোটগুলো পাবলিক করা উচিত আর এই ক্যামিকেলগুলো কি ঠিকমতো কাজ করে কিনা তাও জানান উচিত।’
এদিকে, মশা নিয়ন্ত্রণ ও রাসায়নিকের কার্যকারিতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, রাসায়নিকের মাত্রা সঠিকভাবেই নির্ধারণ হয়। তবে, রাজধানীর ময়লার অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ মশককর্মীসহ নানা সংকটের কারণে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হলেও তার কার্যকারিতা হারায়।
এদিকে, ফগ মেশিনের কার্যকারিতার প্রশ্নে, জনসাধারণের অসচেতনতাকেই দায়ী করলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। জানালেন, ব্যবহৃত রাসায়নিক গবেষণাগারে কয়েক ধাপে পরীক্ষা করে মেশিনের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রয়োগ করা হয়।
আরও পড়ুন:
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ‘আমরা স্কুল-কলেজ ও হলের চারপাশে আমরা ফগিং করি। আমরা আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু মশার প্রকোপ অনেক টাই কমবে।’
সকাল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে ভোর ২৪ ঘণ্টার পুরো সময় ঢাকায় চলে মশার রাজত্ব। মশা থেকে বাঁচতে নিয়মিতই চলে সিটি কর্পোরেশনের ফগিং কার্যক্রম। তাতেও কমেনা মশার উপদ্রব, এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের। সিটি কর্পোরেশনের দাবি, নিয়মিত রাসায়নিকের প্রয়োগ করা হলেও জনসাধারণের অসচেতনতায় মশা নিয়ন্ত্রণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে, অভিযোগ ও দাবির মাঝে একটি প্রশ্নই থেকে যায়, মশা থেকে মানুষ বাঁচবে কবে?





