অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতটুকু বাড়িয়েছি খুবই নগণ্য এটা। এইটা বাড়াতে হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের তহবিলের ওপর এত প্রেশার আসতেছে। দেশের অর্থনীতি চালাতে গেলে আগামী দিনে বাজেট আসছে, সুতরাং এটা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অনেক দেশেই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় দাম বাড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দেশ যেখানে শেষ পর্যন্ত আমরা বাড়াইনি বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। আমাদের সবাই বলছে, আপনারা তেলের দাম বাড়াচ্ছেন না কেন? আপনাদের তো তহবিল খালি হয়ে যাচ্ছে।’
তেলের দাম বাড়ানো আইএমএফের কোনো শর্তের অংশ নয় বলেও স্পষ্ট করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি পরিষ্কার ভাষায় বলছি।’
আরও পড়ুন:
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, আবার নাও বাড়তে পারে।’ এসময় তিনি ব্যাখ্যা দেন, শুধু তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বাড়ে না; বাজারে চাহিদা-জোগান পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ‘তেলের দাম একা তো মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায় না। খালি তেলের দামের জন্য কি মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে?’
আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের সময়ে নেয়া কর্মসূচির নানা শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। সব শর্ত বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেয়া প্রোগ্রাম। এখানে অনেক ধরনের শর্ত দেয়া আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো শর্ত তো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’
আলোচনা আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন চলতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাবে কি না।’
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসবেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তার ভাষায়, ‘সবাই এই নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’





