সরকারি খাল দখলকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৮

হামলায় ৮ জন আহত
হামলায় ৮ জন আহত | ছবি: এখন টিভি
0

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি খাল দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত সাত জন আহত হয়েছেন। গতকাল ( শুক্রবার, ৫ জুন ) উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। শুক্রবার সকালে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আজহারুল ইসলামের সমর্থকরা বাঁধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬) এবং জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মীসহ অন্তত ৮জন আহত হন।

আরও পড়ুন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে জামায়াত-শিবিরের কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে মারধর করেন।

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, ‘খালটির পূর্ববর্তী ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নতুন ইজারা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি খালটির পুনরায় ইজারা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং সেখানে মাছ চাষ কার্যক্রম চলমান ছিলো। তার দাবি, জামায়াত নেতার নেতৃত্বে একদল লোক রড ও শাবল নিয়ে হামলা চালায়।’

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন বলেন, ‘আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি খালের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

জেআর