আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। নিজেদের শিক্ষক দাবি করে তারা স্লোগান দেন ‘তুমি কে? আমি কে? শিক্ষক, শিক্ষক’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই।’ এতে কিছুক্ষণ পরপর শাহবাগ এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
রোববার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী অবস্থান নেন। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে মাথায় ছাতা নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
আন্দোলনের নেতারা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে সেখানেই খাওয়া-দাওয়া ও রাতযাপনের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তারা।
সুমি নামে এক নিয়োগপ্রত্যাশী বলেন, ‘প্রায় ১১ লাখ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তারা ১৪ হাজারের কিছু বেশি পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।’ তিনি দাবি করেন, আজকের মধ্যেই নিয়োগপত্র দিতে হবে, অন্যথায় আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হলেও আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি।
তাদের অভিযোগ, নিয়োগের আশায় অনেকেই আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ ঝুলে থাকায় তারা পরিবারসহ আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শাহবাগে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন সুপারিশপ্রাপ্তরা। পরে ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তারা।





