একই ফ্লোরে ডেঙ্গু-হাম রোগীর চিকিৎসা, সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন

ডেঙ্গু-হাম রোগীর চিকিৎসা
ডেঙ্গু-হাম রোগীর চিকিৎসা | ছবি: এখন টিভি
0

একই ফ্লোরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ডেঙ্গু ও হামের রোগী। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি ও হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রোগী ও স্বজনরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতেই বাধ্য হয়ে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালটিতে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ৭৬ জন রোগী, আর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৬ জন।

হাম সংক্রমণের মাঝেই দেশজুড়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে ১০ নম্বর ফ্লোরে এখনো পর্যন্ত ১৩ জন রোগীর চিকিৎসা করানো হচ্ছে। তবে একটি কনসার্নের বিষয়, সেটি হচ্ছে বেডগুলোতে অধিক সংক্রমণ ব্যাধি হাম রোগেরও চিকিৎসা করানো হচ্ছে। সেখানে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন রোগী। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দু’টি অধিক ঝুঁকিসম্মিলিত রোগের চিকিৎসা একই ফ্লোরে পাশাপাশি করা হচ্ছে, সেটি কতটা যুক্তিসঙ্গত?

আর এ কারণে আতঙ্কে কাটছে এখানে ভর্তি হওয়া রোগীরা। ডেঙ্গু রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হামের মত সংক্রামক রোগের পাশে চিকিৎসা নেয়ায় তাদেরও বাড়ছে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

রোগীর স্বজনদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঠান্ডার প্রকোপটা একটু বেশি ছিল। এখন ঠান্ডা মোটামুটি কমছে, পাতলা পায়খানা একটু ভালো হয়েছে, আর জ্বরটা একেবারে নাই।’

রোগীর স্বজদের মধ্যে অন্য একজন বলেন, ‘হালকা জ্বর হয়েছিল। জ্বরের সঙ্গে হালকা বমির ভাব ছিল। এরপর থেকেই পরিস্থিতি খুব অবনতির দিকে চলে গেছে।’

আরও পড়ুন:

শুধু তাই নয়, গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দ্রুত মশারি টাঙিয়ে দিতে দেখা যায় হাসপাতাল স্টাফদের। যদিও রোগীদের দাবি, আগে থেকেই পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল। তবে হাসপাতাল কর্মীদের ভাষ্য, অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক রোগী মশারি ব্যবহার করতে চান না।

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মশারি সবসময় টাঙায়। কিন্তু আমরা, আমরাই নিজেরা গরমের লাইগা একটু খুইলা রাখি।’

তবে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন রোগী। যদিও নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে।

একজন রোগী বলেন, ‘ভালো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, তারপরে ডাক্তারদের ব্যবহার—সবকিছু ঠিক আছে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে মুগদা মেডিকেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, রোগীর চাপ হাসপাতালের সক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই একই ফ্লোরে হাম ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

মুগদা মেডিকেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা তো মানে দৃশ্যমান যেটা, যে আমরা আমাদের বিল্ডিং তো একটাই, শিশু ওয়ার্ডও একটা। ঠিক আছে? তো সেখানে ডেঙ্গু কর্নার আছে, হাম কর্নার আছে। সেখানে আমরা যাতে মানে ওই ইনফেকশাস যে ইনফেক্টিভিটি যে বিষয়টা সায়েন্টিফিক, সেটা আপনাকে ব্যাখ্যা দিলাম। আমরা সেভাবে চেষ্টা করতেছি। এতে সমস্যা নাই।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মুগদা মেডিকেলে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ৭৬ জন রোগী। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৬ জন।

এসএস