আজ (বুধবার, ১ জুলাই) দিনব্যাপী পরিদর্শনের শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
পরে প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা আনন্দবাজার খাল, পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়রা এ সময় পানির সংকট, গ্যাস সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, অবৈধ দখল, ট্রাফিক জট, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমস্যা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ এই এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশ্বাস দেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ও বিরোধীদলের এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ঢাকা–১৫ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে সহায়ক হবে।
পরিদর্শন ও কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





