জুলাই শুরু হতেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নামে গেল ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন ব্যয় করেছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা, গেল দশ বছরে ব্যয় ১ হাজার ১২ কোটি টাকা। অথচ এতো অর্থ খরচের ফলাফল কী? ২০১৯ সাল থেকে গেল ৮ বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখের বেশি মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৪ জনের।
গত ৮ বছরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংক্রমণ সর্বোচ্চ থাকে, বৃষ্টিপাত কমলেই কমে। প্রায় একই গ্রাফ দেখা যায় মৃত্যুর ক্ষেত্রেও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে সিটি করপোরেশন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা নিছকই লোক দেখানো ও ভাগ বাটোয়ারার। অর্থের অধিকাংশই ব্যয় হয় ওষুধ আমদানি ও স্প্রেতে। অথচ এর কোনোটিই মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদক্ষেপ নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. আবু আসলাম বলেন, ‘তারা ফগিং করে। আমরা বহুবার বলেছি, ফগিং ইজ নট ইফেক্টিভ। যে ইনসেক্টিসাইড আনা হয়, সেই ইনসেক্টিসাইডের ফর্মুলেশন নিয়ে যথেষ্ট সমস্যা আছে। যে ডোজে মশা মারার যাওয়ার কথা, আমি যদি তার চেয়ে কম ডোজ দেই এবং তার চেয়ে যদি ওভারডোজ দেই, তাহলে দুইটাই আমার জন্য ক্ষতিকর। কীরকম ক্ষতিকর। এক নাম্বার ক্ষতিকর হলো, ইনসেক্টিসাইড ইনসেক্টগুলা রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাবে। পরবর্তী বছরের চিন্তা করতে হবে— পরবর্তী বছরে ওই ওষুধ দিয়ে মশাটা মারা যাবে না।’
আরও পড়ুন
চীন, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে একসময় ডেঙ্গু সংক্রমণ হলেও এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে অনেক দেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার উৎস ধ্বংস, বন্ধ্যাত্বকরণ, জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বংশবিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. আবু আসলাম বলেন, ‘লিথাল জিন দিয়ে জেনেটিক কন্ট্রোল এবং একই সঙ্গে উলবাখিয়া দিয়ে জেনেটিক কন্ট্রোল, এসআইটি—স্টারিল ইনসেক্ট টেকনিক-এর কথা, এগুলা অনেকবার আমাদের আলোচনায় এসেছে। পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ অলরেডি এ প্রসেসে সাকসেসফুল হয়েছে। যেহেতু আমাদের সাকসেস রেকর্ড আছে, সেহেতু আমরা একটা প্রসেসে যেতে পারি। কিন্তু এটা আমি এখন চাইলেই করতে পারবো না। আমি যদি এখন শুরু করি, হয়তোবা এটা দুই-তিন বছর পরে গিয়ে আমরা ইমপ্লিমেন্ট করতে পারবো। কিন্তু এটা সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। এখন সমস্যা হয়েছে, আমি এখনই হাই পাওয়ারের ওষুধ দিয়ে মশা মেরে ফেলতে হবে—এইটা কিন্তু আমার আইপিএম বলে না।’
গত কয়েক মাসে ডেঙ্গু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও সিটি করপোরেশন এবারও হাঁটছে পুরোনো পথে। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কলছেন, বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে মেথডে কাজ হবে, সেই মেথডই অ্যাপ্লাই করবো। এটা যদি ওরকম কোনো পদ্ধতি থেকে থাকে, তাহলে আমরা দেখবো। আমরা বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর পর তারা সব দেখে আবার সায়েন্টিফিক্যালি সবকিছু প্রুফ করার পরে আবার আমরা অ্যাপ্রুভ করি।’
ডেঙ্গু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।




