সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার ৭১ জন যাত্রী উধাও হওয়ার ঘটনার সূত্র ধরে এখন টেলিভিশন অনুসন্ধান শুরু করে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ইমিগ্রেশনে গেলে পাওয়া যায় এমন ঘটনার সত্যতাও।
স্পাউস ভিসায় সৌদি আরব যাচ্ছিলেন কুষ্টিয়ার শম্পা। দেশটিতে থাকা এক প্রবাসীর সঙ্গে বছর দুয়েক আগে মোবাইলে বিয়ে হয়েছে জানালেও দেখাতে পারলেন না প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের যাত্রী মামুন রেজার ভিসায় লেখা কারখানা শ্রমিক। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে যাত্রার সঠিক উদ্দেশ্য জানাতে ব্যর্থ হন তিনি। আফ্রিকার আরেক যাত্রী সাত্তার মোল্লাকেও অফলোড করা হয় একই অভিযোগে।
অফলোড হওয়া নেপালগামী কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা পেশা বিরিয়ানির ব্যবসায়ী, বাসের হেলপার ও গাড়ি চালক। সন্দেহজনক হওয়ায় এদের যাত্রাও আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
প্রতিদিন নকল ভিসা, ভুয়া হোটেল বুকিং, পাসপোর্টে পর্যাপ্ত ডলার এন্ডোর্স না থাকাসহ তথ্যের গরমিলে অফলোড হন কিছু যাত্রী। গেলো দেড় বছরে ঢাকা থেকেই কেবল সাড়ে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী অফলোড হয়েছেন। এদের বড় অংশই মালয়েশিয়ার যাত্রী ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিস্টেমের কারণে পাসপোর্ট অফলোড থাকা অবস্থায় কেউ বিদেশে যেতে পারার কথা নয়।
অভিযোগ আছে, বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র নিয়েও বিশেষ কোড ব্যবহার করে বিদেশে চলে যাচ্ছেন কিছু যাত্রী। গেল দেড় বছরে সাতটি দেশ বিমানবন্দর থেকে এমন ৫ হাজারের বেশি যাত্রীকে ফেরত পাঠিয়েছে। এতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের ইমিগ্রেশনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন বলেন, ‘যারা বিশেষ করে ভিজিট ভিসায় যাচ্ছে বা ভিসায় কোনো ধরনের দূর্বলতা আছে, ফেইক ভিসা—এই জায়গাগুলোতে একটা চক্র তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রায় মালয়েশিয়া থেকে যাত্রীরা ফেরত আসছে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন রিপোর্ট করছে, কারণ তারা মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পার হতে পারছে না। বাংলাদেশ থেকে যখন অন্য দেশে চলে যায় এবং সেখানকার ইমিগ্রেশন তাদেরকে ফেরত পাঠায়, তাহলে আমার দেশের ইমিগ্রেশন তৎপরতা বা তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে যাচ্ছে।’
তবে চলতি বছর ভুয়া কাগজপত্রের কারণে বিমানবন্দর পুলিশ ৬৪ যাত্রীকে মামলা দিয়েছে জানালেও কীভাবে কতিপয় যাত্রী ইমিগ্রেশন পার হয়ে যান— এই প্রশ্নের মুখোমুখি হলে ইমিগ্রেশন অপারেশন্সের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে দেশের ইমিগ্রেশন পার হওয়া রাষ্ট্রের জন্য হুমকি। পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবাইকেই এর দায় নিতে হবে।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয়, এর দায়টা শ্রমিকের ওপরে দেয়া হয়। কিন্তু আমার মতে এই দায়টা কেবল শ্রমিকের নয়, বরং এই পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পাচারকারি, স্মাগলার বা রিক্রুটিং এজেন্সি বা ইমিগ্রেশন যেই হোক না কেন যারা সম্পৃক্ত, তারা প্রত্যেকে টাকা অর্জন করছে, দরিদ্র মানুষগুলোকে ব্যবহার করে দেশের ইমেজ নষ্ট করার ক্ষেত্রে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং অভিবাসন শ্রমিকদের তারা ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।’





