কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে আতঙ্কের নাম ডেভিড ইমন। খুব অল্প সময়ে অপরাধজগতের প্রথম সারিতে চলে আসে তার নাম। চট্টগ্রাম জুড়ে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর নেটওয়ার্ক পরিচালনা থেকে শুরু করে হত্যা, চাঁদাবাজি সবকিছুতেই তার উপস্থিতি। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এককালীন ২ কোটি টাকা চাঁদা ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দাবি করে নতুন করে আলোচনায় আসে সে। অবশেষে বুধবার ভোরে যশোর থেকে ৩ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
যশোর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যশোর কোতোয়ালী থানার ঝুমঝুমপুর নামক একটি জায়গা থেকে আমাদের ডিবি পুলিশের চারটি চৌকস দল এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে আমরা চেকপোস্ট করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলে আমরা যেটা জানতে পেরেছি যে, তারা এই পথ দিয়ে ইন্ডিয়াতে যাবার একটা চেষ্টা করেছিল।’
আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জানান, ভারতে আধার কার্ড প্রস্তুত ছিল সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের। তাকে রিসিভ করতে ভারতের সীমান্তে অপেক্ষা করছিল একটি গ্রুপ।
আরও পড়ুন:
আটকের পর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশী পিস্তল, ২টি এলজিসহ দেশিয় অস্ত্র। অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে তাকে। নজরদারিতে রয়েছে সন্ত্রাসী রায়হানসহ গ্রুপের অন্য সদস্যরা।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমর বলেন, ‘ডেভিড ইমনসহ আরও চারজনকে ওখানে গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের টিমটাও পেছনে পেছনেই ছিলো। পেছনে ওখানে গিয়ে আমরা পরবর্তীতে শনাক্ত করতে পারি যে ডেভিড ইমনসহ আরও ৩ জন আছে, সবাই আসলে তারা ক্লোজ অ্যাসোসিয়েটস এবং এরা কিন্তু একেবারে শুটার বলা যায়।’
আধিপত্য জানাতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটায় ইমন। ২০২৫ সালের মার্চে বাকলিয়ার জোড়া খুনের মূল কারিগর ছিল সে। এর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে মে মাসে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ডেও সরাসরি নেতৃত্ব দেয় ইমন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ অন্তত ১৩টি মামলা পেয়েছে পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘ওইপাশে পা—কে পার করবে এবং ভারতকে রিসিভ করবে, এটা কিন্তু সব ঠিক করা ছিলো। ইভেন ওইপাশে আধার কার্ড একটা বলে ইন্ডিয়াতে আছে, ওই আধার কার্ডও তার কাছে আমরা পেয়েছি, যেটাতে সে ইউজ করার কথা সেখানে গিয়ে আমরা তাকে ধরেছি। এখন রিমান্ডে—বিজ্ঞ কোর্টে উপস্থাপন করবো। কোর্ট থেকে রিমান্ডে দিবে, রিমান্ডে দিয়ে যদি দেয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা আরও বিশদভাবে জানতে পারবো। আমরা অনুসন্ধান করবো।’
অবশেষে পুলিশের হাতে বন্দি হয়ে থামলো এই দুর্ধর্ষ অস্ত্রবাজের অপরাধ যাত্রা। তবে সাজ্জাদ বাহিনীর বাকি সদস্যদের নির্মূল করাই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল চ্যালেঞ্জ।





