ক্রমেই জটিল হচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, যা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে ৫৪ জেলায়। প্রিয়জনদের এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলোর ঠিকানা এখন ঢাকার হাসপাতালগুলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গেলো বছর আগস্টের ৩১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় সাড়ে ছয় হাজার এবং মৃত্যু হয় ২৭ জনের। চলতি বছর সেই সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে আক্রান্ত প্রায় ২১ হাজার, মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা মেডিকেলেই চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজারের বেশি রোগী। বর্তমানে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই ঢাকার বাইরে থেকে আসা।
এসব রোগীদের বড় একটি অংশ ভর্তি হচ্ছেন রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো ডেঙ্গুর জটিল উপসর্গ নিয়ে।
দায়ীত্বরত চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বরের সময় রোগীরা যতটা উদ্বিগ্ন থাকে, তার চেয়ে বেশি জ্বর পড়ে যাওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুকিঁপূর্ণ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ‘জ্বর কমে যাওয়া মানেই যে ডেঙ্গু থেকে একেবারে নিস্তার পেয়ে গেছেন, ব্যাপারটা এমন নয়। জ্বর কমে যাওয়ার পরও আরও ক্রিটিক্যাল ফেইজ আপনার ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। তারপর রিকভারি ফেইজটা আসে। সেজন্য এই সময়টা ক্রিটিক্যাল ফেইজ এবং অবজারভেশনে থাকা দরকার।’
ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু ডেঙ্গু রোগীদের অধিকাংশই হয়েছে হাসপাতালে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। দেরিতে হাসপাতালে আসা, এমনকি অব্যবস্থাপনায়ও জটিলতা বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন বলেন, ‘ব্লিডিং নিয়ে আমরা যতটুকু চিন্তিত, আসলে তার চেয়ে বেশি চিন্তা কিন্তু প্রেশার কমে যাওয়া নিয়ে। যেটা রোগী দেখে হয়তো বোঝা যাবে না বা রোগীও কমপ্লেইন করবে না। রক্তপাত হচ্ছে কি না, সেটা জানি যেমন, তার চেয়ে বেশি আমরা প্রেশার বা পালস রেট কত—সেই জিনিসগুলো জানি। কারণ, ডেঙ্গু রোগীর মারা যাওয়ার আরেকটা কারণ হচ্ছে প্রেশার কমে যাওয়া, যেটাকে আমরা বলি ডেঙ্গুর শক-সিন্ড্রোম।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই ব্যক্তি ডেঙ্গু চারটি ভেরিয়েন্টের ভিন্ন ভিন্ন ভেরিয়েন্টে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রন্ত হলে উপসর্গ জটিল হয়। গেলো কয়েক বছরে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে অধিকাংশ রোগীই দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করেছেন তারা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদা বলেন, ‘যে প্রক্রিয়া প্রতি বছর হয়, সেই ধরনের গবেষণা কার্যক্রম এবারও আমাদের এখানে চলমান রয়েছে। এটা জেনে চিকিৎসায় গুণগত বা প্রক্রিয়াগত কোনো পরিবর্তন হবে না।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হামের রোগী বৃদ্ধির মধ্যেই ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকলে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হিসমসিম অবস্থা হতে পারে স্বাস্থ্য বিভাগের।





