ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন | ছবি: এখন টিভি
0

আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) থেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। দেশের মোট ৭৯১টি স্থানে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে ৭৯১ স্থানে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের ট্রেনিং হয়েছে, তারা একদিনে ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১৫ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে চায় সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে তিন থেকে চার কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার মানুষের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ৭১ হাজার ৮৩১ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়া এনআইডি বেইজ করে তথ্য সংগ্রহ হবে। পরবর্তীতে বিবিএস কিংবা অন্য কেউ ডাটা সংগ্রহ কারার সময় এই কার্ড সহায়ক হবে। এক কার্ডে ফ্যামিলির অন্য সদস্যদের সব তথ্য থাকবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় মেনুয়ালি তথ্য দিলেও সফটওয়্যার অটোমেটেড রিড করবে এবং গ্রেডিং করবে যে সুবিধাভোগী কোন টায়ারে পড়বে। কেউ তথ্য গোপন করে অন্য কোনো ভাতা পেলে অটোমেটিক সফটওয়্যারে দেখা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়—এই তিন ক্যাটাগরির মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। দারিদ্র্যতা ও জীবনমান যাচাইয়ে পিএমটি স্কোরিং এর মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার জন্য ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেয়া হবে না। দলীয় পদধারী কাউকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে রাখা হয়নি। এই প্রোগ্রামে কাউকে ঠকানো বা জেতানোর সুযোগ নেই।’

আরও পড়ুন:

এসময় ফ্যামিলি কার্ড পেলে নারীর ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাড়বে বলেও জানান তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মন পরিষ্কার, উদ্দেশ্য পরিষ্কার। ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহকারীরা মেনুয়ালি নির্ধারণ করতে পারবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৫১টি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে সব তথ্য ইনপুট দেয়ার পর সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশে উপকারভোগী নির্ধারণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা আছে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে কার্ডগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কারো আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন হলে কার্ড বাতিল করা হবে বা যুক্ত করা হবে।’

এসময় ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার নাম করে বিয়ের কাবিননামায় টিপসই নেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহকারী কাউকে সন্দেহজনক হলে অভিযোগ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

এসএস