গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান ও অস্ত্র বহন নিয়ে ইশরাক হোসেনের ব্যাখ্যা

ইশরাক হোসেন
ইশরাক হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
4

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এবং আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রচারিত সংবাদের ওপর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ (রোববার, ১৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালীন একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ

প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্রে তাকে হামলা ও ছাদ থেকে গুলিবর্ষণের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে ৩০-৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী মারমুখী ভঙ্গিতে গাড়িবহরের দিকে ধেয়ে এলে জানমালের নিরাপত্তায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি সরিয়ে নেয়া হয়। আইন মেনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রটি শুধু আত্মরক্ষার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

যৌথ অভিযান ও ৬ জন গ্রেপ্তার

ঘটনার পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযানে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে হেরোইন, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ টাকা ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়। হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দকৃত আলামতসহ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ

কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম অভিযানের সাফল্য, মাদক উদ্ধার ও অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে গিয়ে কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ শিরোনামে খণ্ডিত ও চটকদার সংবাদ প্রচার করেছে। তিনি গণমাধ্যমকে সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।

মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’

সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অপপ্রচারের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। ঢাকা-৬ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

জেআর