দল গোছাতে বিএনপির জোর প্রস্তুতি: নেতৃত্বে গুরুত্ব পাচ্ছেন ত্যাগী ও সক্ষমরা

বিএনপি লোগো
বিএনপি লোগো | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংগঠনগুলো ঢেলে সাজাতে জোর প্রস্তুতি চলছে ক্ষমতাসীন বিএনপির। দেশ ও দলের জন্য অবদানের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সক্ষমদেরকেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে—এমনটি জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় ছাত্রদলসহ বাকি সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিএনপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন। দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৯৭৯ সালের ১লা জানুয়ারি ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকটে ছাত্রদলের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।

টানা প্রায় দুই দশক রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকার পর গেলো ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। রাজনীতির মাঠেও তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। এমন অবস্থায়, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর কথা বলছেন দলটির হাইকমান্ড।

বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের অন্যতম চালিকাশক্তি, ছাত্রহলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এই বছরের ১লা মার্চ। এবার নতুন কমিটির জন্য- নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যস্ত পদ-প্রত্যাশীরা।

পদ প্রত্যাশী একজন ছাত্রদল কর্মী বলেন, ‘মেধা শ্রম ও সমসাময়িক বাস্তবতা এবং যে প্রোপাগান্ডা চলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলোর বিষয়ে সোচ্চার কণ্ঠ এবং নানা বিষয়ে হয়তে পার্টি ভাববে।’

আরও পড়ুন:

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, ছাত্রসমাজের আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবেন ছাত্রহলের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ছাত্রহলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ‘যারা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন ধারাবাহিকভাবে সেটি নিঃসন্দেহে একটি বড় ক্রাইটেরিয়া। এর বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, ছাত্রহলের মতো একটি বৃহৎ সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে তার যে পরিমিতিবোধ এবং অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে সরকার। এখন দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সংগঠনগুলো নিয়ে কাজ চলমান এমনটি জানিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যেসব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিলো সেসব পালনে প্রাথমিক কাজগুলো আমাদের করতে হচ্ছে। এ মুহূর্তে এটা প্রায়োরিটি। কিন্তু আমরা এটা জানি আমাদের দল যদি সংযত এবং শক্তিশালী না হয় তাহলে এ কাজ করা কঠিন হবে আমাদের জন্য। ফলে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অলরেডি এটা নিয়ে কাজ করা শুরু করেছেন যে এই যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এটার পাশাপাশি আমাদের দলের কাজটাও করতে হবে।’

দল ও দেশের জন্য অবদানের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিদেরকেই নতুন কমিটিতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ত্যাগী নেতাকর্মী তারা দলের সম্পদ, পরীক্ষিত। একটা সংগঠনের নেতৃত্বের জন্য শুধু ত্যাগ যথেষ্ট নয়। অন্যান্য সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। তো সেগুলো নিয়েই করা হচ্ছে। অবশ্যই যাদের দলের জন্য, দেশের জন্য অবদান আছে তাদের তো অবশ্যই রাখা হবে।’

ছাত্রহলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদের এই কমিটি গঠিত হয়েছিলো ২০২৪ সালের পহেলা মার্চে।

ইএ