Recent event

সাতক্ষীরায় শেষ মুহূর্তের নির্বাচনি জনসভায় সরব প্রার্থীরা; উন্নয়ন-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনি জনসভায় সরব প্রার্থীরা
নির্বাচনি জনসভায় সরব প্রার্থীরা | ছবি: এখন টিভি
0

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক নির্বাচনি জনসভায় সরব হয়ে উঠেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। জনসভাগুলোতে উন্নয়ন, বৈষম্যহীন সমাজ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকার প্রতিশ্রুতি উঠে আসে।

কলারোয়া ফুটবল মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় বক্তব্যে রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক ও তালা-কলারোয়া সাতক্ষীরা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবেন। তালা-কলারোয়ায় কোনো বৈষম্য থাকবে না। অতীতে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তা ধরে রেখে বাকি উন্নয়ন সম্পন্ন করতেই ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’

একইসঙ্গে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারী প্রধান পরিবারকে মাসিক ভাতা ও কৃষকদের কৃষি সহায়তা দেয়ার ঘোষণাও দেন।

এদিকে আশাশুনিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি ও দখলদারিত্বমুক্ত দেশ গড়তে সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা ভিন্ন প্রতীকের আড়ালে পুরনো শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

তিনি আশাশুনির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার কথা তুলে ধরে এলাকাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান।

তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে তালা-কলারোয়াকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। মায়ের কোলে শিশু যেমন নিরাপদ থাকে, তেমনি হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও নিরাপদ থাকবে।’

পাশাপাশি পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ও তালাকে পৌরসভা করার উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান ইজ্জত উল্লাহ।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে কালিগঞ্জের সোহরাওয়ার্দী পার্কে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের ফুটবল প্রতীকের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্যে তিনি জানান, জনগণের ভালোবাসাই তার শক্তি। নিজেকে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে মানুষের পাশে থেকে কাজ করবেন। তিনি ভোটারদের সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

একই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীন বলেছেন, ‘সাহাবীদের পর আর কেউ কাউকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অথচ জামায়াত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সাধারণ মা-বোনদের বেহেশতের টিকিটের লোভ দেখিয়ে ভোট চাইছে।’

সোমবার বিকেলে আশাশুনি সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, ‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’

আশাশুনি-কালিগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভাগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস