রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাকে শুধু আমার আসনের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গেই লড়তে হয়নি। বিএনপি এখানে সর্বশক্তি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নেমেছিল। তারা বিষয়টি এমনভাবে নিয়েছিল যে, দলের চেয়ে ব্যক্তির ইমেজ ভালো হতে পারে না। আমি রুমিন হয়েছি শুধু বিএনপি একসময় করতাম এইজন্য; তারা বলেছিল যে, রুমিনকে হারাতেই হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার এ নির্বাচনের প্রস্তুতি ২২ দিন বা ২৫ দিনের প্রস্তুতি না। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত চার-পাঁচদিন এলাকায় থাকতাম। এই প্রস্তুতি অনেক আগের। এটা আমার নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি। এ জয়টা আমার না, আমার ভোটারের। যারা আমাকে ভোট দেয়নি, আমাকে নিয়ে অশালীন কুৎসিত মন্তব্য করেছে- বিএনপির পদধারী নেতারা, আমি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। কারণ তারা যদি এতটা কদর্য আচরণ না করতো, তাহলে হয়তো আমি এত ভোটের ব্যবধানে জিততাম না। মানুষ ব্যালটে তাদের সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও অকৃতজ্ঞতার জবাব দিয়ে দিয়েছে।’
আরও পড়ুন:
বিএনপির কার্যক্রমে ক্ষোভ জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল ভোটের অধিকারের জন্য; সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য; সেই আন্দোলনের আমিও শরিক ছিলাম। কিন্তু দলের ১৮ মাসের কার্যক্রমে আমরা দেখেছি কী করে মানুষের কাছ থেকে পয়সা আদায় করা যায়, কী করে জুলুম করা যায়, কী করে জমি-ব্যবসা দখল করা যায়, কী করে চাঁদাবাজি করা যায়; আমি কি সেগুলোরও সঙ্গী হবো? তা-তো নয় নিশ্চয়ই। আমার রাজনীতি আমার, দলের রাজনীতি দলের। আমি আশা করবো তারা ২০০১ থেকে ২০২৬ এ যে ভুলগুলো করেছে, তার পুনরাবৃত্তি তাদের হবে না। গত দেড় বছর তারা মানুষকে নানারকমভাবে বিরক্ত করেছে, সেটার পুনরাবৃত্তি হবে না। এটুকুই আমার আশা থাকবে।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘হাঁস’ প্রতীকে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আলোচিত নারী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেঁজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন রুমিন ফারহানা।





