Recent event

ঘুমকেও যেভাবে ইবাদতে রূপান্তর করবেন, জেনে নিন সুরা ফাতিহার গভীর দর্শন

ঘুমকে ইবাদতে রূপান্তরের দোয়া
ঘুমকে ইবাদতে রূপান্তরের দোয়া | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র কোরআনের সর্বাধিক পঠিত সুরা হলো সুরা ফাতিহা (Surah Al-Fatihah)। এর আয়াতগুলো আমাদের ঠোঁটের আগায় মুখস্থ থাকলেও আমরা কি সত্যিই এর গভীরতা অনুভব করি? বিশেষ করে পঞ্চম আয়াতের সেই অংশ— “আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য চাই।” (সুরা ফাতিহা, আয়াত: ৫)

এই আয়াতটি ইবাদতের এক অনন্য দর্শন ব্যাখ্যা করে। ইবাদত মানে কেবল জায়নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা নয়; বরং সঠিক নিয়ত আর অন্তরের উপস্থিতির মাধ্যমে একজন মুমিন তার জীবনের অতি সাধারণ কাজগুলোকেও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম বা ইবাদতে রূপান্তর (Transforming habits into worship) করতে পারেন।

আরও পড়ুন:

ইবাদতের মূল নির্যাস ও স্তর (Essence of Worship)

ইবাদত মানে হলো আল্লাহর দাসত্ব বা তার গোলামি করা। আমরা যখন বলি ‘ইয়্যাকা নাবুদু’, তখন আমরা স্বীকার করি যে আমাদের জীবনের প্রতিটি স্পন্দন কেবল তারই জন্য। ইবাদতের মূলত তিনটি স্তর রয়েছে যা আমলের গুণগত মান নির্ধারণ করে:

  • ভীতি (Fear): আল্লাহর শাস্তির ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
  • আশা (Hope): তার রহমত ও জান্নাত পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রাখা।
  • ভালোবাসা (Love): স্রষ্টার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তার নির্দেশ পালন করা।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, “তোমরা আমাকে ডাকো ভয়ে ও আশায়।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৫৬)

সাধারণ কাজ যখন পুণ্যময় (Converting Daily Habits into Rewards)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)। এই সহিহ হাদিস (Sahih Hadith)-এর ভিত্তিতেই আমাদের সাধারণ অভ্যাস বা ‘আদত’ ইবাদতে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:

ঘুম যখন ইবাদত (Sleep as Worship)

আপনি যদি এই নিয়তে রাতে ঘুমান যে, শরীরকে বিশ্রাম দিলে আমি ভোরে ফজর নামাজ (Fajr Prayer)-এ মনোযোগ দিতে পারব এবং সারাদিন হালাল উপার্জনের শক্তি পাব, তবে আপনার ওই ঘুমের পুরো সময়টাই ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।

সংসার ও কর্মক্ষেত্র (Family and Career)

পরিবারের জন্য রান্নাবান্না করা বা উপার্জনকে আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব মনে করলে প্রতি পদক্ষেপে সওয়াব মিলবে। এমনকি স্ত্রীর মুখে লোকমা তুলে দেওয়াকেও রাসুল (সা.) সদকা (Charity) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এহসান: ইবাদতের সর্বোচ্চ মান (Concept of Ihsan)

ইবাদতের মানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে আমাদের মধ্যে ‘এহসান’ বা গভীর অভিনিবেশ তৈরি করতে হবে। হাদিসে জিবরাইলে এহসানের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে— “তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করো যেন তুমি তাকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে মনে করো তিনি তোমাকে দেখছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮)। এই সচেতনতা কাজের একনিষ্ঠতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন:

সাহায্য চাওয়ার প্রকৃত দর্শন (Seeking Help from Allah)

সুরার এই অংশে আমরা বলি, ‘ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন’ (শুধু তোমারই সাহায্য চাই)। তবে এর মানে এই নয় যে মানুষের সাহায্য নেওয়া যাবে না। প্রকৃত সাহায্যকারী একমাত্র আল্লাহ, আর মানুষ কেবল মাধ্যম (Medium)। অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ না চাইলে কোনো মানুষই আমার উপকার করতে পারবে না—এটাই হলো প্রকৃত তাওহিদ (Monotheism)।

একনজরে: ইবাদতের রূপান্তর ও মানদণ্ড
বিষয় সারসংক্ষেপ ও শিক্ষা
রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি শুদ্ধ নিয়ত (Pure Intention)
ইবাদতের ৩ স্তর ভীতি, আশা এবং ভালোবাসা।
এহসানের মূলকথা আল্লাহ আমাকে দেখছেন—এই অনুভূতি রাখা।
সাহায্যের উৎস একমাত্র আল্লাহ; মানুষ কেবল মাধ্যম।

আরও পড়ুন:


এসআর