শ্রদ্ধা-ভক্তিতে মহাসপ্তমী; মন্দিরে মন্দিরে পূজার আয়োজন

মন্দিরে মন্দিরে পূজার আয়োজন
মন্দিরে মন্দিরে পূজার আয়োজন | ছবি: এখন টিভি
0

শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভরে পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমীর প্রথম দিন। আজ (শনিবার, ১৭ অক্টোবর) সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে চলছে পূজার নানা আচার আনুষ্ঠানিকতা। সকালে দেবীর চক্ষুদান, কলাবউ স্নানসহ সপ্তমীর বিহিত পূজা ও ভক্তরা অঞ্জলী প্রদান করেন।

ঢাকের ছন্দে মুখরিত চারপাশ। ধূপের সুগন্ধ, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে উৎসবমুখর পূজা মণ্ডপে দেবীর আরাধনা করছেন ভক্তরা। আনন্দ, আবেগ আর ভক্তির মেলবন্ধনে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় মহাসপ্তমী।

ষষ্ঠীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর মহাসপ্তমীর প্রথম দিনে এসে পায় পূজার পূর্ণতা। শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দেবীর মহাপূজা। সকালে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার শুরু। কলাগাছসহ নয় ধরনের উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা তৈরি করা হয়। গঙ্গা জলে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পরানো হয় নবপত্রিকাকে, যা পরিচিত কলাবউ নামে।

নবপত্রিকা স্থাপনের পর শুরু হয় দেবী বন্দনার আনুষ্ঠানিকতা। আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দ্বীপ নিবেদনের মধ্য দিয়ে চলে এই আরাধনা।

মহাসপ্তমীর পূজার অন্যতম আচার হিসেবে ছিল দেবীর চক্ষুদানের। পর্দায় ঘেরা নির্দিষ্ট স্থানে শাস্ত্রীয় বিধান মেনে দেবী দুর্গার ত্রিনয়নে কাজল পরানো হয়। এরপর দেবীর উদ্দেশ্যে অঞ্জলি নিবেদন করেন ভক্তরা।

ভক্তদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সবার তো মনে একটা ইচ্ছা আছে, তো চাই মা ওই ইচ্ছাগুলো পূরণ করুক। আজকে শুভ সপ্তমী, মানে খুব ভালো লাগছে আরকি। অবশেষে মা আসলেন আমাদের কাছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘দেশের যে পাপ এবং যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য দেবীর কাছে অবশ্যই প্রার্থনা করবো।’

আরও পড়ুন:

বহুযুগ পর এবার তিথি অনুযায়ী দু’দিনে পালিত হচ্ছে মহাসপ্তমী। শঙ্কা থাকলেও বাড়তি অর্চনা হলে উমা পৃথিবী থেকে সব পাপ দূরীকরণ করবেন বলে বিশ্বাস পুরোহিতদের।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে পূজা করতে হচ্ছে। যেহেতু তিথি দীর্ঘ হতে হতে আজকে সপ্তমী দুইবার সপ্তমী হয়েছে। অর্থাৎ আগামীকাল সূর্যোদয়ের পরেও সপ্তমী রয়েছে। ফলে আগামীতেও সপ্তমী পূজা করতে হবে।’

মহানগর কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী বলেন, ‘যখন পাপে, তাপে, অন্যায়, অত্যাচারে, অবিচারে যখন মানুষ বেশি বৃদ্ধি পায়, তখন মা আমাদের মাঝে একদিন সময় নিয়ে, অর্থাৎ এটা বলি আমরা বাড়তি পূজা। সেই জন্য মা আমাদের মাঝে আরও একদিন সময় দিয়ে এই সুশীল সমাজকে মুক্ত করবেন।’

লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিককে নিয়ে সপরিবারে বাবার বাড়িতে আছেন দুর্গা। নয় দিন নয় রাত অবস্থান করবেন ভক্তদের ঘরে ঘরে।

আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হলো দেবী দুর্গতিনাশিনীর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অপেক্ষার হলো অবসান। এ বা কম কিসে? পুরোহিতদের মতে, পৃথিবীতে অন্যায় ও পাপের বোঝা ভারী হওয়ায় তিথি অনুযায়ী এবছর ব্যতিক্রমভাবে সপ্তমী পালিত হচ্ছে দু’দিনে। এ দু’দিনই ভক্তরা থাকবেন দেবী দুর্গার আরাধনা ও মগ্ন প্রার্থনায়।

এসএস