বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন। যার প্রায় ৬৩ শতাংশ পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। কৃষি, সেচ, সড়ক পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যবহার হয় বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিলো প্রায় ৪৩ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের জাহাজ আসতে দেরি এবং সৌদি আরবের এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজ আটকা পড়ায়- কমেছে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তিন মাসে মোট ২৫ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস ও ডিজেল আমদানি হয়েছে। তবে ডিজেল আমদানি গেল বছরের চেয়ে কমেছে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘ওভারঅল যে সংকটের কথা বলা হয়েছে, আমার মনে হয় আমদানি চিত্র যদি অনুধাবন করি তাহলে সংকট তৈরি হবার কথা না।’
এদিকে, ডিজেল সরবরাহ সংকটে অভ্যন্তরীণ নৌ ও সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিভিন্ন গন্তব্যে আড়াই হাজার লাইটারেজ জাহাজ চলাচলে ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দিচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ লিটার। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করলে ও ডিজেল সংকটে গন্তব্যে যেতে পারছে না অনেক লাইটারেজ জাহাজ।
আরও পড়ুন:
তেলের ডিলার ও জাহাজ অপারেটর শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সারা দেশে নদীপথে মাল পরিবহণের জন্য ১০ লাখ লিটার তেল দরকার। সেখানে সারা বাংলাদেশে ২ লাখ লিটারের বেশি তেল পাচ্ছে না। তাহলে নদীপথ অচল হয়ে যাবে।’
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি পণ্য পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কনটেইনার প্রতি ডেমারেজ চার্জ বাড়ানোয় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘শিপিং কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ডেমারেজ চার্জ নিতে হবে ৯৫ ডলার। আজ থেকে তারা নিচ্ছে ১৩৫ ডলার। আমাদের পোর্টের ডেমারেজ চার্জ বেড়ে গেছে।’
চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টন। আগামী তিন মাসে আরও প্রায় ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে বিপিসির।





