নিজেদের ফসলের খেতে কাজ করছিলেন নুরুল সর্দার ও তার স্ত্রী। বৈশাখের প্রথমদিনেই কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হবে— এমন খবর শুনে চোখেমুখে আনন্দ ফুটে উঠেছে কৃষকদের পরিবারে।
প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক পাবেন প্রণোদনা, মিলবে সহজ শর্তে সার, বীজ ও সেচ-সহায়তা। ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা এবং সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এরইমধ্যে, ১০ হাজার টাকার সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকারের দায়িত্বের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এগুলোই গুরুত্ব পাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে কৃষক পরিবার ১ কোটি ৬৮ লাখ। আর কৃষিশ্রমে যুক্ত ৩ কোটির কাছাকাছি মানুষ। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরুতে ৯টি উপজেলায় কৃষক কার্ড আলোর মুখ দেখবে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে সব কৃষকই পাবেন সুবিধা। ৪ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রীপরিষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের মধ্যে আমরা শুরু করার চিন্তা করছি এবং আশা করছি পারবো।’
সব কৃষককে কার্ডের আওতায় আনা বেশ জটিল হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ‘দুটি উপকার হবে, একটা হলো কৃষি উপকরণ যেগুলো আছে, সেগুলো কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা অনেক সময় সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তা আশা করি কৃষকদের জন্য, এর জন্য কৃষি কার্ড খুবই উপকারী হবে।’
মাঠপর্যায়ে এসব সুবিধা বাস্তবায়নে দলীয়করণের অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়াটাও পূর্বশর্ত হিসেবে মনে করা হচ্ছে।




