ফ্রান্স-সুইডেন ম্যাচে শুরুটা ছিল একটু অস্বস্তির। সুইডেন আক্রমণ করে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সময় যত গড়িয়েছে, ম্যাচ ততই ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বল দখল, পাসের গতি আর আক্রমণের তীক্ষ্ণতায় ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে সুইডিশ রক্ষণ।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের পাস থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ নিয়ে দেম্বেলে-এমবাপ্পে জুটির বিশ্বকাপে যৌথ গোল অবদান দাঁড়ায় ছয়টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
গোলের পর আবেগঘন মুহূর্তে পুরো দল ছুটে যায় কোচ দিদিয়ের দেশমের কাছে। পারিবারিক শোকের মধ্যেও দলের পাশে থাকা কোচকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন খেলোয়াড়রা।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন ফ্রান্স আরও ভয়ংকর। ৫৩ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৪ মিনিটে আবারও ওলিসের পাসেই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে।
এই ম্যাচে দুই অ্যাসিস্ট করে ইতিহাসে জায়গা করে নেন মাইকেল ওলিসে। টুর্নামেন্টে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে, যা ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। পুরো ম্যাচজুড়ে তিনিই ছিলেন আক্রমণের প্রাণ। সবচেয়ে বেশি শট, সবচেয়ে বেশি বল টাচ, আর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি।
স্কোরলাইন ৩-০ হলেও, ছবিটা ছিল আরও একতরফা। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের ২৫টি শটের ১২টি ছিল লক্ষ্যে। পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে দুটি শট, অল্পের জন্য মিস হয়েছে আরও কয়েকটি সুযোগ। এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়, আর মাইকেল ওলিসের দৃষ্টিনন্দন বাইসাইকেল কিক কাঁপিয়ে দেয় গোলপোস্ট।
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যায় বার্তা। এই ফ্রান্স দল শুধু জিতছে না, তারা গড়ে তুলছে এক ভয়ংকর আত্মবিশ্বাসী বিশ্বকাপ অভিযাত্রা।





