৬৬’র বিশ্বকাপ জয়ের পর শিরোপা ধরে রাখতে ৭০ এ মেক্সিকোতে পা রেখেছিলো ইংল্যান্ড। দলের দুই প্রধান ভরসা ছিলেন ববি মুর এবং গর্ডন ব্যাঙ্কস। জিওফ হার্স্ট এবং ববি চার্লটনের মতো নামী তারকা থাকলেও ইংলিশদের বিশ্বকাপ ধরে রাখার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিলো মুর-ব্যাঙ্কস জুটি।
তবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে এ দু’জনের ওপরেই মানসিক এবং শারীরিক প্রভাব ফেলেছিলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ব্রিটেনের অনুসন্ধানী সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল গেটহাউজ এবং গর্ডন ব্যাঙ্কসের নাতি এড জার্ভিস সম্প্রতি ৩ বছরের এক অনুসন্ধান শেষে বের করে এনেছেন এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বিশ্বকাপের আগে বোগোটা কেলেঙ্কারিতে ব্রেসলেট চুরির দায়ে আটক হয়েছিলেন অধিনায়ক ববি মুর। তাকে ছাড়াই মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলো ইংল্যান্ড।
পরে দলের সঙ্গে মুর যোগ দিলেও, এ ঘটনার ছাপ থেকে যায় তার মনস্তত্বে। যদিও, ঘটনার ৫৬ বছর পরও চুরির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধানী সাংবাদিক গেটহাউজ বলছেন, মুরকে আটকের ঘটনায়ও জড়িত থাকতে পারে সিআইএ।
আরও পড়ুন:
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে পার্টিতে গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কসের হাতে পানীয় তুলে দেন অজ্ঞাত একজন।
ব্যাঙ্কস পরবর্তীতে নিজের আত্মজীবনীতে স্বীকার করেছিলেন, সেই পানীয় গ্রহণের পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হয় বদলি গোলরক্ষক পিটার বোনেত্তিকে। আর সেটাই ইংলিশদের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে বোনেত্তির ভুলে ৩ গোল হজম করে বাদ পড়তে হয় সেই সময়ের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে।
ব্যাঙ্কস থাকলে ইংল্যান্ডের জয় পাওয়া সহজ হতো, সেটা এখনও বিশ্বাস করেন অনেকে। সেক্ষেত্রে ২১ জুনের ফাইনালেও ইংল্যান্ডের জায়গা পাওয়া ছিলো অনেকটাই নিশ্চিত। আর তাতে কঠিন হতো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়।
এখন প্রশ্ন হলো ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে কেন মরিয়া ছিলো যুক্তরাষ্ট্র? সত্তরের দশকের সেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে ব্রাজিলের স্বৈরশাসক জেনারেল এমিলিও মেদিচির সমর্থন দরকার ছিলো মার্কিনিদের। লাতিন অঞ্চলে সমাজতন্ত্রের প্রভাব ঠেকাতেই মূলত পেলে-জাইর্জিনহোদের ব্যবহার করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
যদিও সম্প্রতি এ অভিযোগ তোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত নীরব আছে সবপক্ষই। ’৭০ এর অনিন্দ্যসুন্দর ব্রাজিলের জয় নিয়ে তাই রহস্যের জটও সহসাই খোলা যাচ্ছে না।





