সাগরের নীল জলরাশি আর বরফাবৃত পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ যেন এক টুকরো সবুজ স্বর্গ। প্রথম দেখায় এটিকে কোনো কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা বা গ্রাফিক্সের কারসাজি মনে হতে পারে। কিন্তু না, এটি বাস্তব। উত্তর মেরুর কাছে, নরওয়ের লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জের হেনিংসভার যাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল পিচ।
আর্কটিক সার্কেলের এ প্রত্যন্ত দ্বীপে বাস করেন মাত্র ৫০০ জন মানুষ। পেশায় যারা মৎস্যজীবী। শুটকি মাছের ব্যবসার অর্থে যাদের বেশিরভাগেরই দিন পার হয়। কিন্তু এ পাঁচশো মানুষের কোলাহলের মধ্যে মিশে আছে ফুটবল প্রেম। যদিও এখানে নেই কোনো পেশাদার টুর্নামেন্ট, প্রথাগত স্টেডিয়ামের মতো নেই কোটি টাকার গ্যালারি। তীব্র শীত ও তুষারপাতও থমকে দিতে পারে না এখানকার ফুটবল প্রেমকে।
এ মাঠের আরেকটি ম্যাজিক লুকিয়ে আছে এর আবহাওয়ায়। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটে গ্রীষ্মকালে। সে সময় এই অঞ্চলে কখনও সূর্য অস্ত যায় না। ফলে ঘড়ির কাঁটায় যখন মধ্যরাত, তখনও দিনের আলোর মতোই চলে ফুটবল উন্মাদনা। আর শীতকালে যখন পুরো দ্বীপ বরফে ঢেকে যায়, তখন শক্তিশালী ফ্লাডলাইটের আলোয় এই কৃত্রিম ঘাসের পিচটি হয়ে ওঠে এলাকার একমাত্র প্রাণকেন্দ্র।
একটা সময় এ মাঠটি ছিলো কেবল স্থানীয় অপেশাদার ক্লাব হেনিংসভার আইএল এর অনুশীলনের জায়গা। গুঞ্জন আছে ৫০ সালের আগে নাকি এই পিচ এমন ছিলনা মোটেই। আইস স্কেটিং রিং হিসেবে ব্যবহৃত হতো জায়গাটি। কিন্তু সময়ের পালাবদলে বদলে যায় এ পিচের চিত্র। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণও।
লোফোটেন দীপপুঞ্জে হেনিংসভার ছাড়াও রয়েছে রেইনে, বালস্টাড কুন্সটগ্রেস, লেকনেস ইড্রেটস্পার্কের মতো অনেক ফুটবল পিচ। স্থানীয় ক্লাবগুলো মূলত নরওয়ের জাতীয় ফুটবল পিরামিডের ৪র্থ, ৫ম এবং তার নিচের অপেশাদার আঞ্চলিক স্তরগুলোতে অংশ নেয়। মূলত ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সীমিত জনসংখ্যার কারণে এ ক্লাবগুলোর পক্ষে শীর্ষ পেশাদার স্তরে লড়াই করে টিকে থাকা কঠিন বলেই এখানেও এখনও কোনো পেশাদার লিগ হয়নি।
ফুটবলের সঙ্গে প্রকৃতির এমন মেলবন্ধন সত্যিই বিরল। কোটি টাকার আধুনিক গ্যালারি না থাকলেও, প্রকৃতির এ বিশাল ক্যানভাসই হেনিংসভারকে এনে দিয়েছে বিশ্বের সেরা ফুটবল পিচের খেতাব।





