মাঠে বল গড়ানোর আগেই কোচদের দ্বন্দ্বে যেখানে লেখা হয়েছিলো বিতর্কের চিত্রনাট্য। সেখানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ভালো হওয়ার আশা যেন অলীক কল্পনা। এরপরও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় এডাম আব্বাস, জিদান ইউসুফদের সুবাদে যতটুকু আশা বেঁচে ছিলো তাও যেন কোচের পরিকল্পনায় নস্যাৎ হয়েছে।
ঘটনার শুরু আরও আগে। দুই মাস আগে চুক্তি করা ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্স প্রকাশ্যেই এনেছিলেন বেতন বকেয়া আর নিরাপত্তা শঙ্কার অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, টুর্নামেন্টের জন্য দেশ ছাড়ার ঠিক আগে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সাথে তার বাদানুবাদ ও কোন্দল গড়ায় টিম হোটেল পর্যন্ত। অথচ, তখন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি ফুটবল ফেডারেশন।
ফলাফল তাসখন্দে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ পরে সিরিয়ার সঙ্গে ৩-০ গোলের হার। যার দরুণ মূল টুর্নামেন্টের টিকিট কাটার সম্ভাবনা থাকলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ এখন কেবলই নিয়মরক্ষার। দুই ম্যাচের বাজে হারের কারণে দেখিয়ে বহিষ্কার করে জেরার্ড জোন্সকে। তবে সব হারানোর পর বাফুফের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বাফুফে ডেপলপমেন্ট কমিটির সদস্য।
শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘যেহেতু সে দুটি ম্যাচ বাজেভাবে হেরেছে, টিম বাজে খেলেছে, তার কোনো কমান্ড ঠিকমতো কাজ করেনি; সেহেতু হয়তো বাফুফে জিতে গেছে। তবে আল্টিমেটলি বাংলাদেশ হেরে গেছে।’
আরও পড়ুন:
টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোচকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে ফেডারেশনের ভেতরে কোনো চেইন অফ কমান্ড ছিলো না। এ কথা স্বীকার করে ফেডারেশনের ডেফলপমেন্ট কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম মানিক বললেন, তাকেও ঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া হয়নি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মতামতের খুব গুরুত্ব আছে বলে আমি মনে করি না। হয়তো মিটিংয়ে যখন ফাইনাল স্টেজ আসে, তখন মতামত দিই। আমি তো জানি অ্যাট লিস্ট, আমার সেই এক্সপেরিয়েন্স আছে, আমি যেই মতামতের দাম থাকবে না, সেটা দিয়েও লাভ হবে না।’
বয়সভিত্তিক দলের এমন পরিস্থতি এড়াতে একজন পেশাদার ম্যানেজার প্রয়োজন বলেও মনে করেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যিনি ফুলটাইম সার্ভিস দিতে পারবেন, তাকেই ম্যানেজার করা উচিত। যিনি সার্বক্ষণিক সাপোর্ট করবেন দলটাকে, দেখভাল করবেন, বিশেষ করে বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোনো অভাব আছে কি না, ডিসিপ্লিনে সমস্যা আছে কি না—এসব দেখতে হবে।’
জেরার্ড জোন্সের আগেও মার্ক কক্সকে নিয়ে নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচনা কম হয়নি বাফুফের। তবে তাবিথ আউয়ালের নতুন নেতৃত্ব এলেও, প্রশাসনের এই পুরনো অপেশাদারিত্ব ও মনিটরিংয়ের অভাবই বারবার স্বপ্নভঙ্গ করছে দেশের তরুণ ফুটবলারদের।
বারবার এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে মাঠের এই ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়া অসম্ভব বলেও মনে করেন ডেপলপমেন্ট কমিটির এই সদস্য।





