সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তা ও ফুটবল প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। যেখানে বেশ কয়েকটি বিষয়ের সমাধানের উদ্দেশ্যে চলতে থাকে রুদ্ধদ্বার বৈঠক।
প্রায় সড়ে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে উঠে আসে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির গোপন চেষ্টা। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ঘটনা। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার নেপথ্য কারণ। এবং জিয়ানি ইনফান্তিনোর ঘোষিত এক দশমিক তিন মিলিয়ন পাউন্ডের ‘দ্বিতীয় বেতন’ বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ। এছাড়াও বৈঠকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অনুদান বাড়ানোর প্রস্তাব।
বৈঠকের শুরুতেই বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির চেষ্টার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগেরই লিখিত প্রমাণ বা নথি জমা দেননি তিনি। যে কারণে ইনফান্তিরো উপর চটেছেন মহাদেশীয় সংস্থার সদস্যসহ ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেবি হিউইট।
আরও পড়ুন:
ডেবি হিউইট বলেন, ‘আমরা যেসব নির্দিষ্ট ডকুমেন্টস চেয়েছিলাম-যেমন বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি এবং বালোগান কেসের ফাইল-তার একটারও উত্তর আমরা আজ পাইনি। আমি স্পষ্ট বলেছি, ইনফান্তিনোকে এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতেই হবে। তিনি যদি উত্তর না দেন, তবে তিনি ফিফা সভাপতি পদে থাকার যোগ্য নন। ফুটবলকে যখন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন সেটি ফুটবলের জন্য চরম কালো দিন।’
মিটিংয়ের ফল হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে: লাল কার্ডের শাস্তি যেন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনৈতিক চাপে স্থগিত না করা যায়, সে জন্য ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কারের বিষয়টি তদন্ত করতে ফিফা সোশ্যাল কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরে দোহা অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মিটিংয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে।
২১১টি দেশের মধ্যে ২০০টির বেশি দেশের সমর্থন নিয়ে একসময় একক আধিপত্য চালানো জিয়ানি ইনফান্তিনোর ভিত এখন নড়বড়ে। সুইস আদালতে ইউয়েফার আইনি পদক্ষেপ এবং প্রকাশ্য বিদ্রোহের মুখে পড়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হয়ে ফিরে আসাটাই এখন ইনফান্তিনোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা।





