শীত আসার আগে প্রতিবছর শীতের সবজি দেখা মেলে হাটবাজারে। বেশি দামের আশায় পরম যত্নে আগাম সবজি চাষাবাদ করেন জেলার শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর উপজেলার কৃষকরা। এবারও চাষ করেছেন মূলা, কপি, সিম, লাউসহ নানা সবজি। চাষিদের অভিযোগ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ার কারণে এবং অপেক্ষাকৃত বেশি জমিতে চাষাবাদ হয় বাজারের সবজি তেমন দাম পাচ্ছেন না তারা।
কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গতবারের তুলনায় খরচাটা একটু বাড়ছে কিন্তু গাছ তো টিকানো যাচ্ছে না। গাছ টিকানো গেলে তো কিছুটা বাজার পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’
অন্য একজন বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ খরচ বাড়ছে। কীটনাশকের দাম বেশি। কীটনাশক ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। সারের দাম বেশি, সার পাওয়া যাচ্ছে না।’
প্রতিদিনই এই পাইকারি বাজার থেকে অর্ধশত ট্রাক সবজি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মোকামে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কিছুটা কম দামে সবজি কিনলেও পরিবহন খরচের কারণে পোষাতে পারছেন না। নামমাত্র লাভে কেনাবেচা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মোকামে নিয়ে যামু মনে করেন যে এখন ইনকাম হচ্ছে না। গাড়ি ভাড়া বেশি, তেলের দাম বেশি। হাটের খাজনা বেশি। সব দিক দিয়েই মনে করেন যে হামাগরের ব্যাপরতা। হামাগরের আবার কামাই নাই।’
আরও পড়ুন:
কৃষি বিভাগ বলছে, এবার বেশি জমিতে আগাম সবজি চাষ হওয়ায় এবং ফলন ভালো পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তাই দাম কিছুটা কম। তবে লাভ কম হলেও কৃষক সবজিতে লোকসান দিচ্ছেন না বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ বলেন, ‘কৃষকরা হয়তো আশা করে যে প্রথম সবজির দামটা আর বেশি পাবে আর কি। তো একটা সুবিধা তাদের হয়েছে যে আমাদের যারা ক্রেতা তারা কিন্তু কম টাকায় তারা সবজিটা পাচ্ছে। অপরদিকে কৃষকরা মনে করছে যে আমি গতবারে যে লাভটা করেছিলাম তার চেয়ে একটু কম হচ্ছে মনে হয়। তো এই দুইটার একটা ভারসাম্য অবশ্যই থাকা থাকতে হবে বা থাকা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘তো সেক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ হলো যে আগাম জাত যেগুলো তারা করে এগুলো যদি বেশি উচ্চ ফলনশীল যেটা ফলন বেশি দিবে এটা যদি করে থাকে তাহলে তাদের উৎপাদনটা পুষিয়ে যাবে।’
বগুড়ায় এবার ২ হাজার ২১০ হেক্টর আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। পুরো মৌসুমে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর।





