চট্টগ্রাম সিটি এফসির টানা হারে ফিক্সিংয়ের সন্দেহ; তদন্তের আশ্বাস বাফুফের

মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত ফুটবলাররা
মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত ফুটবলাররা | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি চট্টগ্রাম সিটি এফসির। শুধুমাত্র বাজে ফলাফল না, ফিক্সিংয়ের সন্দেহটাও ভর করেছে বন্দরনগরীর দলটির উপর। গোলরক্ষক শান্ত স্কোয়াড থেকে জায়গা হারিয়েছেন তবে তাতে কি সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে কিনা। আমরা এসব নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি বাংলাদেশের সাবেক গোলরক্ষক এবং ফুটবল বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। কথা বলতে চেয়েছি চট্টগ্রাম সিটি এফসির ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। শুধুই কি দুর্ভাগ্য নাকি এর পেছনে ফিক্সিংটাও জড়িয়ে আছে।

একজন গোলকিপার আপনি দেখেছেন, নিজে একজন গোলকিপার ছিলেন। সো, একজন গোলকিপারের সাপেক্ষে এই যে গোলটা সে হজম করল যদিও অফসাইডের বাঁশি বেজেছিল বাট এই জিনিসটাকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা এটা নিয়ে যদি বলি, এই যে শটটা ছিল। আমার মেয়ে ১০ বছর বয়স। আমার মেয়েও কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এটা প্রটেক্ট করতে পারতো। সো এটা সন্দেহ হবেই। আপনি এই ধরনের যদি গোল কনসিড করে, গোলকিপারের এক্সপ্রেশন যদি এই ধরনের থাকে তাহলে যেকোনোই কিন্তু আপনার সন্দেহ করতে পারে। সো আমিই বলছি না যে এটা ওরা পাতানো ম্যাচ খেলছে কিনা। কারণ আমি ভাই আমি দূরে থেকে একজন সাপোর্টার হিসেবে দেখছি, একজন কোচ হিসেবে দেখছি। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা টোটালি একজন গোলরক্ষক, এই মানের গোলরক্ষক কখনো এই ধরনের গোল কনসিড করে না।’ 

বিরতির আগে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে পাঁচ রাউন্ডে হয়েছে ২৯ ম্যাচ। তাতে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি এফসির গোলরক্ষক শান্তর বিপক্ষে। তবে সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্যের মতে, এককভাবে শান্তকে দায়ী করা উচিত নয় মোটেও।

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘ম্যানেজমেন্ট থেকে যদি কোনো ইনফরমেশন না যায় কখনো একটা খেলোয়াড় ম্যাচ পাতাতে পারে না। যদি হয়, সব দিক দিয়েই দেখতে হবে আপনার। স্ট্রিক্টলি, কারণ একজন খেলোয়াড় যখন একটা ক্লাবের পক্ষে খেলে সে ক্লাব ম্যানেজমেন্টের ওপর ডিপেন্ড করে তার অ্যাটিটিউডটা, হ্যাঁ। সো আমি জানি না এই জিনিস যদি হয়ে থাকে, এককভাবে আপনি শান্তকে কখনোই ইয়ে করতে পারেন না। নিশ্চয়ই বিহাইন্ড দ্য সিন সামবডি আছে।’

প্রথম ম্যাচে ফর্টিস এবং পরের ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশের বিপক্ষে সন্দেহজনক গোল হজমের পরেই শান্তকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে রাখে চট্টগ্রাম সিটি এফসি।

চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘শান্ত খেলতো চাইছিলো না। সে বলেছিল ভাই আমারে রেস্ট দেন। আমিতো প্রথম দিন আইসা প্র্যাকটিস করি নাই। ও প্র্যাকটিসটিস ছিল না আসলে। এখন রেজাল্টতো খারাপ হয়েছে। আমাদের খারাপ করার জন্য কিছু হয়তো কিছু মানুষজন আছে যারা আমাদের চট্টলার ভালো চাইতেছে না। হয়তো তার জন্য ওরা এইভাবে এগুলো করছে।’ 

ফিক্সিংয়ের মত গুরুতর অভিযোগ নিয়েও সিটি এফসি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি প্রশ্ন করি আমরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন ক্লাবের এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন,‘আমাদের নিয়ে বদনাম করলে তো আমরা তো কিছু করতে পারব না। আমরা যখন ভালো করি তখন তো আর কেউ কিছু বলে না আর খারাপ করলে এটা নিয়ে সবাই আলোচনা তুলে। অন্যান্য টিমের তো আরও খারাপ রেজাল্ট হয়েছে , ওদের তো কেউ এমন আলাপ উঠছে না । বাফুফের সবার রাইট আছে এটা তদন্ত করার জন্য।’

তদন্ত কি করবে বাফুফে, জানতে চাই লিগ কমিটির কাছে। লিগ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তো আন্দাজে হুট করে বলতে পারি না এটা ম্যাচ ফিক্সিং হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং যদি হয়ে থাকে তাহলে আমাদের যে কমিটি আছে, কমিটি আমাদের কাছে জানাবে। জানালে আমরা পরবর্তীতে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে আমাদের কোনো আপস নাই। এর সর্বোচ্চ পানিশমেন্ট হবে।’ 

এই মুহূর্তে লিগ টেবিলের তলানিতে আছে চট্টগ্রাম সিটি এফসি। মাঠের বাইরের এসব বিতর্ক ছাপিয়ে বিরতির পর লিগে ভালো পারফর্ম করবে দল এমন আশার কথাই শোনাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

এএম