মেসি দৌড়ায় না, হাঁটে— তাতেই যত রেকর্ড

গোলের পর মেসির উদযাপন
গোলের পর মেসির উদযাপন | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বকাপে সেমির দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে আরও একবার চর্চায় ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারে শেষ প্রান্তে থাকা লিও অন্যসবার থেকে কম দৌড়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টারের। এলএমটেনের সেই সাফল্যের পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে।

আধুনিক ফুটবল মানেই গতি আর হাই প্রেসিং। ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে মাইলের পর মাইল দৌড়াতে হয় ফুটবলারদের। পরিসংখ্যান বলছে, একজন ফুটবলারকে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১১ থেকে ১৩ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। সবাই যখন দৌড়ের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, লিওনেল মেসি তখন হেঁটে হেটেই রচনা করেন নতুন মহাকাব্য। সবকিছুকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাঁটার রাজা বনে গেছেন এলএমটেন।

গতিময় উইঙ্গার হিসেবে বার্সেলোনায় শুরু করা লিও পেপ গার্দিওলার অধীনে ফলস নাইন থেকে পরবর্তীতে নাম্বার টেন পজিশনেও খেলেন। সাফল্য পেতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের কৌশল পরিবর্তন করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।

বিবিসির তথ্যমতে চলতি বিশ্বকাপে মেসি তার অতিক্রম করা মোট দূরত্বের ৪৭ শতাংশই হেঁটেছেন, যা সব আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এখন প্রতি ৯০ মিনিটে মেসি গড়ে ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড়ান। আর প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ২ দশমিক ৭টি স্প্রিন্ট দেন। আগে বিশ্বকাপে তার স্প্রিন্টের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৩।

তবে দৌড় কমলেও ম্যাচে মেসির প্রভাব এতটুকু কমেনি। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসি ৩৩টি শটের বিপরীতে ২১টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ সম্মিলিত সংখ্যা। আর টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড আছেই আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ শতাংশ সময়ই মাঠে অলস হেঁটে বেড়ান এই মহাতারকা। অথচ, ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক তিনিই। কিন্তু কীভাবে? বিজ্ঞান এবং ফুটবল বোদ্ধারা একে বলছেন দ্য আর্ট অব ওয়াকিং বা হাঁটার শিল্প। যখন মেসি হাঁটেন, তখন তিনি আসলে অলস দাঁড়িয়ে থাকেন না বরং তিনি মাঠ স্ক্যান করেন।

প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর খুঁজে নেন নিজের ফুটবল মস্তিষ্ক দিয়ে। এই কৌশলে ডিফেন্ডারদের চোখের আড়ালে থাকার এই ক্ষমতাটি মেসিকে অফসাইড ফাঁদ এড়াতেও সাহায্য করে। ঠিক যেমনটি তিনি কেপভার্দের বিরুদ্ধে গোল করার সময় করেছিলেন।

লিওনেল মেসি প্রমাণ করেছেন, ফুটবল শুধু পায়ের জোর বা ফুসফুসের দম নয়। ফুটবল মূলত মস্তিষ্কের খেলা। কম দৌড়েও নিখুঁত পজিশনিং আর ঈশ্বরপ্রদত্ত ড্রিবলিং দিয়ে তিনি বছরের পর বছর ধরে শাসন করছেন ফুটবল বিশ্বকে। আধুনিক ফুটবলের তীব্র গতির যুগেও তিনি এক শান্ত, ধীরগতির অথচ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জাদুকর।8

এসএস