জীবন এখানে সংগ্রামের সমার্থক। ভূমিতে বীজ বপন করা থেকে ফসল ঘরে তোলার প্রতিটি ধাপেই লুকিয়ে থাকে অনিশ্চয়তা। পহেলা বৈশাখ এসব কৃষকের কাছে অন্য আর কয়েকটি সাধারণ দিনের মতোই। তবে এবারের গল্পটা ভিন্ন। নবান্নের প্রথমদিনে চালু হওয়া কৃষক কার্ড মাঠে-প্রান্তরে যেন এনেছে ঈদ আনন্দ।
কৃষকরা জানান, সব পণ্যর মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা এখন লাভের মুখ দেখতে পারেন না। কৃষক কার্ড পেলে উপকৃত হবেন বলছেন কৃষকরা।
সরকারের হিসেবে, কৃষকদের ভাগ করা হয়েছে ৫টি ক্যাটাগরিতে। ৫ শতাংশের কম জমির মালিক হলে ভূমিহীন, ৫ থেকে ৪৯ শতাংশের মালিক হলে প্রান্তিক আর ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
শুরুতে এই ৩ শ্রেণির কৃষককে কার্ডের আওতায় আনা হলেও ধাপে ধাপে সব কৃষককেই দেয়া হবে কার্ড । মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিরাও যুক্ত হবে এই প্লাটফর্মে।
আরও পড়ুন:
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কেউ কেউ পাবেন মাসিক আড়াই হাজার টাকার ভাতা। কেউ পাবেন ভর্তুকিযুক্ত সার ও কৃষি উপকরণ। মিলবে কৃষিঋণসহ ১০টি সুবিধা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রত্যাশা এর মধ্য দিয়ে সরকারের সঙ্গে কৃষকের সঙ্গে দূরত্ব কমবে, দূর হবে দুর্নীতি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘সরকারি যত সুবিধা আছে প্রযুক্তিগত, প্রশিক্ষণগত, ঋণ-সুবিধা, প্রণোদনার সুবিধা সব ধরনের সুবিধা থাকবে। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষক বর্গাচাষি। তবে তাদের শনাক্তকরণ সহজ নয়। কৃষক কার্ডকে কার্যকর করতে হলে নির্ভুল, হালনাগাদ এবং যাচাইযোগ্য ডাটাবেস তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন কৃষি গবেষকরা।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা দেখি বিগত সময়ে এ জেলে কার্ড এসব কার্ড যখন দেয়া হয়েছে, তখন যে জেলে না তাকেও দেয়া হয়েছে। আমি বলবো এ কার্ড যেন দলীয়করণের ঊর্ধ্বে এবং সঠিক মানুষ যেন এ কার্ড পায়। এ কার্ড যেন প্রতিবার আপডেট করা হয়। কারণ জেলে-কৃষক তারা প্রতিনিয়ত তাদের পেশা পরিবর্তন করছে।’
এই কার্ডে মৎস্যজীবী ও গবাদি পশুপালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করায় কৃষি ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার হবে বলেও মনে করেন তিনি।





