চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম প্রয়োগের বিষয়ে ধারা ৩০১-এর অধীনে একটি তদন্ত শুরু হয়। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ বিশ্বের ৬০ দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
ইউএসটিআর জানায়, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদনের অভিযোগে বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। আমদানি নিষিদ্ধকরণ নীতিমালা মানতে ব্যর্থ হওয়ায় রাশিয়া, চীন,অস্ট্রেলিয়াসহ বাকি অন্তত ৪১ দেশকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া, হকি স্টিক ও ওয়াইনসহ কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পোশাক ও কৃষি যন্ত্রপাতিসহ কিছু ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে।
ইউএসটিআর জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালতের শুরু হওয়া একটি তদন্তের রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের একটি আইনের ক্ষমতাবলে এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। যেটি বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা নামে পরিচিত।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কেবল রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার কমানো এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেসব দেশ শ্রমবিরোধী আইন বাস্তবায়ন করেছে তারা কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।
এছাড়া গত ফেব্রুয়ারির জনশুনানির পর, যেসকল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করা সম্ভব নয় এরকম কিছু পণ্যকে শুল্কমুক্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আয়রন, কিছু চিনিজাত পণ্য, প্রাণিজ ও বীজজাতীয় পণ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক দ্রব্য।




