চেনা-অচেনা পথে পা মিলিয়ে পথ চলা, চলতে চলতে চলতে হঠাৎ দূরত্ব। একাই উড়তে গিয়ে নিঃসঙ্গতায় ফেলে যায় আমাদের পাখিরা।
জীবনের উত্থান পতনে, অন্ধকারের সরু গলি ভেদ করে যেমন উঁকি দেয় আলোর ঝলকানি, হয়তো কখনো আলোর পেছনে লুকিয়ে থাকে অন্ধকার, হয় এটাই জীবনের রসায়ন।
আমাদের যাপিত জীবনের চিরচেনা আড্ডা থেকেই প্রতিবছর অভিমানে হারিয়ে যায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী। যাদের প্রায় অর্ধেকই স্কুলের গণ্ডি পার হয়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এমনই তথ্য দিয়ে বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পড়াশোনায় অতিরিক্ত চাপ, পারিবারিক কলহ, বিষণ্ণতা, সাইবার বুলিং, প্রেমঘটিত সংকট, একাকিত্বের মতো কারণে বাড়ছে এই প্রবণতা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী চার শতাংশ ছেলে ও ছয় শতাংশ মেয়ে আত্মহত্যার চিন্তা বা পরিকল্পনা করে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পর বুঝতে পারেন আশপাশের সহপাঠিরা।
আত্মহত্যা করা এক শিক্ষার্থীর সহপাঠিরা জানান, তারা অনেকবার জিজ্ঞাসা করে সমস্যা জানতে, তবে তার কোনো উত্তর পাননি তারা।
সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপেও সন্তানদের পথে যেতে বাধ্য করে করে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ডিজ্যাবল পিপলের প্রেসিডেন্ট রওশন আরা জামান বলেন, ‘যেকোনোভাবেই হোক তার সন্তানটিকেই ভালো স্কুলে পড়তে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে। একই স্কুলে পড়ছে কিন্তু বাচ্চা বেশি ভালো করলো, বেশি ভালো করলো না। আবার যারা ভালো রেজাল্ট করেছে, যার সন্তান, সে আবার অন্য একটু কম ভালো স্টুডেন্টদের সঙ্গে বাচ্চাকে মিশতে দিতে চায় না। এই সমস্ত অনেক ধরনের সাইকোলজিক্যাল বিষয় আছে।’
আরও পড়ুন:
এসব ক্ষেত্রে অবিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকদের আরও বেশি সচেতনতা দরকার বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশন কলেজের অধ্যক্ষ আফরোজা শারমিন বলেন, ‘বাচ্চারা দেখা যাচ্ছে যে তারা কলেজে ঠিকমতো আসছে না বা তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে না। আবার অভিভাবকের কথায় শুনছে না। তখন হয়তো বাবা-মা কিছু একটা কটু কথা বললো বা একটা খারাপ আচরণ করলো, বাচ্চারা তো নিতে পারে না। ব্যাপারটা এমনভাবে ডিল করবো যেনও মানে। বাচ্চার সঙ্গে সময় দিতে হবে।’
চিকিৎসকরা বলছেন, যেকোনো ধরনের আত্মহত্যার ইঙ্গিতকে মেডিকেল ইমার্জেন্সি হিসেবেই নিতে হবে।
বাংলাদেশ মেডিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার একটি ইনজুরি হলে আমি যেমন চাই, হার্ট অ্যাটাক হলে আমি যেমন চাই, তেমনই আমার যদি ব্রেইন ফগ হয়, আমার যদি মেজর ডিপ্রেশন হয়, আমার যদি অ্যাংজাইটি হয়, আমাকে প্রফেশনাল হেল্প চাওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল অ্যাপ্রোচে আমরা চেষ্টা করি যে এগুলোকে সলভ করার জন্য। বায়োলজিক্যালি আমাদের কাছে অনেক সময় যেটা হয় যে যেমন মেজর ডিপ্রেশনে আমাদের যেটা হয় যে সোটোনিন লেভেল আমাদের কমে যায়। সেক্ষেত্রে আমরা বায়োলজিক্যাল যে সমস্ত আমাদের এজেন্ট রয়েছে, সেগুলো আমরা ইউজ করি।’
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সিলিং সেল থাকা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





