সৌদি আরবে নিহত মোশারফের মরদেহ সখীপুরে দাফন

প্রবাসী মোশারফ হোসেন
প্রবাসী মোশারফ হোসেন | ছবি: সংগৃহীত
0

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩৮) মরদেহ ১২ দিন পর আজ (শুক্রবার, ২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত মোশারফ হোসেন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. সুজাত আলী।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে সৌদি আরবের আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ইফতারের সময় মোশারফ হোসেন নিহত হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরব যান মোশারফ। সবশেষ দুই বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। মৃত্যুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগেও বড় ছেলে মাহিমের (১৪) সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়।

মাহিম জানায়, সেদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে তার কথা হয়। এ সময় ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিতে বলেন মোশারফ এবং ইফতারের পর টাকা পাঠানোর কথাও জানান। কিন্তু ইফতারের সময়ই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যু হয়।

মোশারফের বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান (৭) প্রথম শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্র।

আরও পড়ুন:

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে মোশারফের স্ত্রী কবরী আক্তার শোকাহত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন এই দুই সন্তান নিয়ে আমি কীভাবে চলব? আমাদের এখন কে দেখবে?’

শুক্রবার সকাল থেকে কীর্তনখোলা গ্রামে মোশারফের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। নিহতের মা, একমাত্র বোন মোর্শেদা এবং স্ত্রী কবরী আক্তার বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন।

মোশারফের বাবা সুজাত আলী বলেন, ‘আমার ছেলেকে তো আর জীবিত দেখতে পাব না। তার মরদেহটা দেখতে পারব—এটাই এখন শান্তি।’

উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, বিকেলে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে মোশারফের পরিবার।

এএম