নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি, তবে সরকারকে সঠিক ধারায় ফিরতে হবে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: এখন টিভি
2

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে, অনিয়ম হলেও ফল মেনে নিয়েছি। তবে সরকার সঠিক ধারায় ফিরে না এলে সারাদেশের মানুষ ‘জুলাই যোদ্ধা’ হয়ে উঠবে।

আজ (সোমবার, ২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময়ে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ঈদের সময় যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মুখোমুখি হয়েছেন। যে আশা নিয়ে মানুষ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে যাবে, সেমাই খাবে, সেই আনন্দ এখানেই মাটি হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে ধোকাবাজি চলছে। সড়কমন্ত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে তাদের পাওয়া যাবে কীভাবে?’

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে, অনিয়ম হলেও আমরা মেনে নিয়েছি। দেশটা অচল না হোক। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তাহলে সারাদেশের মানুষ কিন্তু ‘‘জুলাই যোদ্ধা।’’ এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, বিরোধীদলীয় নেতাকে সরকার যে বাড়ি দিয়েছে, তিনি সেই বাড়িতে থাকবেন না। এটি দেশের প্রয়োজনে ব্যবহার করবেন। সেখানে বিদেশি মেহমানদের নিয়ে কথা বলবেন। শুধু রাষ্ট্রের কাজে এটি ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করতে হয় না। তারা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চান, বাংলাদেশে আর চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম হবে না। সরকার এটি করলে তাদের সব ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা ও সমর্থন দেয়া হবে। তবে জনস্বার্থের বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ এলে তার প্রতিবাদ করা হবে, না মানলে প্রতিহত করা হবে।’

আরও পড়ুন:

নির্বাচন না দিয়ে সরকার বিভিন্ন পদে তাদের দলের লোকদের বসাচ্ছে, যা ঠিক নয়। তিনি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির।

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শুরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।

ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয় লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে যান। তাঁকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৪ হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং অতিথিদের সঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।

এএম