দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাপ্তাই লেক, রাঙামাটির পাহাড়ি আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু সড়ক এবং দিগন্তবিস্তৃত সবুজ অরণ্য পর্যটকদের কাছে সারা বছরই আকর্ষণীয়। বিশেষ করে রাঙামাটি শহরের পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক, সুবলং, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক, সাজেক ভ্যালি ও কাপ্তাইয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
আজ (সোমবার, ২৩ মার্চ) রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। দল বেঁধে নৌভ্রমণে মেতে উঠেছেন পর্যটকেরা। ঝুলন্ত সেতুতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সুমনা শারমিন বলেন, ‘রাঙামাটি খুবই ভালো লাগছে। ব্যস্ততম শহর, ব্যস্ত একটা রুটিন পার করি। হঠাৎ করেই আসা। হুট করে উৎফুল্ল হয়ে যাওয়ার মতো।’
গাজীপুর থেকে আসা গৃহবধূ ফাহমিদা হক বলেন, ‘রাঙামাটি না আসলে এর সৌন্দর্য বলে বোঝানো যাবে না। পরিবার নিয়ে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইল থেকে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙামাটি দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গা। এখানে এসে অনেক ভালো লেগেছে। এখানে বারবার আসতে মন চায়। খুবই সুন্দর।’
বছরে কয়েক লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক রাঙামাটিতে ভ্রমণে আসেন। সাধারণত ছুটির দিনগুলোতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার পর্যটকের উপস্থিতি থাকে রাঙামাটির তিন পর্যটনকেন্দ্রে। বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখে।
রাঙামাটি শহরে ৫৬টি আবাসিক হোটেল, ১৭টি রিসোর্ট এবং সাজেকে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। কাপ্তাইয়েও রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল-রিসোর্ট। সব মিলিয়ে এই তিন পর্যটনকেন্দ্রে ১৫ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের টানা ছুটিতে সব মিলিয়ে অন্তত ২০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণদেব বর্মণ বলেন, ‘সাজেকে আমাদের ১১১টি কটেজ-রিসোর্ট ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি, এই ঈদের টানা ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে।’
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এখন আবহাওয়া খুবই চমৎকার। ঈদের টানা ছুটিতে আমরা পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই মো. শাহ আলম বলেন, ‘ঈদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে ঘুরতে আসছেন। তাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তৎপর আছি। আশা করছি, পর্যটকেরা সুন্দর ও সুস্থভাবে বিনোদন শেষে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন।’





