স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে শহরের ধাক্কামারা এলাকায় বিদ্যুতের পোলে উঠে মেরামত করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎ সংযোগে মারা যান শাহিন আলম নামে নেসকোর এক লাইনম্যান। তারপর থেকেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় ধাক্কামারা, সুগারমিলসহ বিভিন্ন এলাকায়।
দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার গ্রাহক। পানি সংকটসহ নানা সমস্যায় পড়েন তারা।
এদিকে সময় গড়ালেও নেসকো ও পল্লি বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আজ (সোমবার, ৫ এপ্রিল) দুপুর ১টায় মহাসড়কে অবরোধ শুরু করেন গ্রাহকরা।
আরও পড়ুন:
পরে প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
পঞ্চগড় চিনিকল এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘প্রায় ২৪ ঘণ্টা থেকে আমরা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। তাই আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।’
আসাদুজ্জামান খান নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ করে না। আমাদেরকে তারা মানুষ মনে করছে না। ছেলেমেয়ে নিয়ে এই গরমের মধ্যে অসহনীয় সময় পাড় করছি আমরা। কারো বাড়িতে খাবার পানিও নেই। কারো ফ্রিজের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
আবু সালেহ রায়হান নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘নেসকো ও পল্লি বিদ্যুৎ সমন্বয়হীনতায় এমন ঘটনা বার বার ঘটছে। এর আগেও এই অফিসের খামখেয়ালির কারণে অনেকের প্রাণ গেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা বলেন, ‘পল্লি বিদ্যুতের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। সমস্যা সমাধান করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
পঞ্চগড় পল্লি বিদ্যুতের ডিজিএম মাজহারুল আলম বলেন, ‘আমাদের লাইনের কোনো সমস্যা নেই। সড়ক অবরোধ করার পর নেসকো থেকে আমাদের কাছে লোক চাওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে লোক দিয়েছি। এই সমস্যা মূলত নেসকোর, আমাদের নয়।’





