নোয়াখালীর সুবর্ণচর রবিশস্যের অন্যতম ভাণ্ডার হলেও বর্তমানে সর্বত্র মিঠাপানির জন্য হাহাকার। ভূগর্ভের পানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে বাসাবাড়িতে গভীর নলকূপে উঠছে না পানি। পরিকল্পনা ও অনুমোদন ছাড়াই চাষিরা এক থেকে দেড় হাজার ফুট গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ কাজে ব্যবহার করছেন। এর প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ পানি পাওয়া যায় না গভীর নলকূপে বলে জানান স্থানীয়রা।
সুবর্ণচরে চাষাবাদের জন্য ২৪৫টি সেচপাম্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে চাষিরা আরও তিন হাজারের বেশি অনুমোদনহীন সেচপাম্প স্থাপন করেছেন। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলগুলো উঠছে না, পানি। মাইলের পর মাইল হেঁটে পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়রা জানান, পানি সংকট সমাধানে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূগর্ভের পানির মজুতের পরিমাণ জরিপ করতে হবে। নদী ভাঙনের কবলে বিলীন হওয়া স্লুইসগেইটগুলো পুনরায় নির্মাণ ও দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করে সেখানে চাষাবাদের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা গেলে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। আর স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জনস্বাস্থ্যের এ কর্মকর্তা।
সুবর্ণচর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সমস্যা নিরসনে খুব শিগগ্রই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত। যদি তা বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে সমস্যা সমাধান করা ও সম্ভব।’
নদীভাঙনে এ জনপদের বেশিরভাগ স্লুইস গেট নদীগর্ভে বিলীন। জোয়ার-ভাটার কারণে খালগুলোতে অবাধে ঢুকেছে লোনা পানি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিতভাবে গভীর-অগভীর নলকূপ বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুতই এ সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।





