রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের তীরে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে সূচিত হবে উৎসবটির। রাঙামাটি রাজবন বিহারের পূর্ব ঘাটে আনুষ্ঠানিক ফুল ভাসান শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ পাহাড়ি নারী-পুরুষ। এছাড়া শহরের গর্জনতলী মধ্যম দ্বীপে ও তবলছড়ির কেরানী পাহাড় ঘাট সহ বিভিন্ন স্থানে ভাসানো হয়েছে ফুল।
মূলত চৈত্রসংক্রান্তিতে বাংলা বষের্র বিদায় ও বরণ উপলক্ষ্যে এ উৎসব উদযাপন করে পাহাড়ি জনগণ। চলে ২৯ চৈত্র থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত। বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাইং আর চাকমারা উৎসবটিকে বিঝু নামে পালন করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি। এর বাইরে তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা সাংক্রান ও অহমিয়ারা বিহু, সাঁওতালরা পাতা নামে তিন দিনের উৎসব পালন করে।
আরও পড়ুন:
কলেজ শিক্ষার্থী হ্যাপী তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ফুল বিঝু। গঙ্গা মায়ের উদ্দেশ্যে আমরা পানিতে ফুল ভাসাই। গত বছরে আমাদের যা দুঃখ, কষ্ট, মনের আশা অপূরণ ছিলো সেগুলো যেন পূরণ হয় সে প্রার্থনা করেছি।’
চিকিৎসক পত্নী হেলেন দেওয়ান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো আমরা সবাই মিলে ফুল ভাসাতে এসেছি, এখানে। সবার প্রত্যাশা আমরা সুখে শান্তিতে থাকবো। দেশের উন্নয়ন তথা সুখ সমৃদ্ধি এটাই চাই আমরা।’
আগামীকাল (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) উদযাপিত হবে উৎসবের মূলদিবস। এ দিন চাকমারা মুলবিঝু, মারমারা সাংগ্রাইং আক্যা, ত্রিপুরারা বৈসুকমা নামে পালন করে উৎসবটির। আর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন বা উৎসবের তৃতীয় দিন চাকমারা গোজ্যেপোজ্যে, মারমারা সাংগ্রাইং ও ত্রিপুরারা বিসিকাতাল নামে পালন করবে। এদিনে একাট্টা হয় নব বর্ষবরণ বা বৈশাখী উৎসব।
এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে সপ্তাহব্যাপী রাঙামাটিসহ তিন জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইং জলোৎসব। আর এরই মধ্য দিয়েই পাহাড়ের এ বর্ণিল বর্ষবরণ উৎসব। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে জল উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের এ বর্ণিল উৎসব।





