‘পীর’ শামীম হত্যা: শিবিরের সাবেক সভাপতিসহ চারজনের নামে মামলা

কথিত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম
কথিত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম | ছবি: এখন টিভি
0

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে সংঘবদ্ধ হামলায় ‘কথিত পীর’ আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল (সোমবার, ১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।

নাম উল্লেখ থাকা অন্য আসামিরা হলেন— জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি।

এছাড়া মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

আরও পড়ুন:

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি আমার আত্মীয় এবং তার ভাইয়ের নির্দেশেই আমি মরদেহ আনতে গিয়েছিলাম। ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গেও আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। এরপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অথচ ওই দিন সেখানে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারও নামে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তাদের দলের কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয় এবং তারা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।’

আরও পড়ুন:

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ফিলিপনগরের দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় সেখানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৭০-৮০ জন হামলায় অংশ নেয় এবং ৭-৮ জন সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশো শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক ভিডিও ছড়ানো কয়েকটি আইডি ও পেজের অ্যাডমিন শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এসএস