মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন কুরুক পাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিংলত পাড়ার বাসিন্দা লেং ক্লাং ম্রোর তিন মাস বয়সী মেয়ে জং রুং ম্রো। অপরজন একই এলাকার লুকুন ম্রোর সাত মাস বয়সী ছেলে খতং ম্রো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে পাড়ার কয়েকজন শিশুর শরীরে ছোট ছোট ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল দুই শিশুর মৃত্যু হয়। পরে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আজ সকালে আরও ছয় শিশুকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাক নাও ম্রো জানান, এলাকায় আরও অনেক শিশু অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতেও বিলম্ব হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কুরুক পাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ‘বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত এলাকায় একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের উপসর্গ দেখে তাদের হাম আক্রান্ত বলে ধারনা করা হচ্ছে। রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত এলাকায় চার সদস্যের একটি স্বাস্থ্যকর্মী দল পাঠানো হয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত হামের টিকা মজুত রয়েছে।’
বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘দুর্গম কুরুক পাতা ইউনিয়নে কয়েকজন হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমরা সেখানে একটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় নেট না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা ফিরে এলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪ জন রোগীর স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে সবাই নেগেটিভ এসেছে।’





